রাবিতে ভাষা শহিদদের ব্যানারে বীরশ্রেষ্ঠের ছবি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০; সময়: ১১:৪৭ অপরাহ্ণ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ব্যানারে ভাষা শহীদদের পরিবর্তে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি ব্যবহারের পর এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের এমন একটি ব্যানার নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। ২১শে ফেব্রুয়ারি প্রভাতফেরি নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগও ব্যবহার করেছে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি সম্বলিত ব্যানার। এমন ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসন বলছে, এ ধরনের কার্যক্রম ভাষাশহীদদের জন্য অসম্মানজনক। তাদের এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল বলে কেউ কেউ মত দিয়েছেন। এর জবাবে বিভাগ কর্তৃপক্ষ বলছে, এখানে কাউকে ছোট করা কিংবা অসম্মান জানানোর উদ্দেশে এমনটা করা হয়নি। এই ভুল প্রেসের কারণে হয়েছে।

সমালোচনার জন্ম দেওয়া ওই ব্যানারের মাঝখানে লেখা ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।’ এর একপাশে শহীদ মিনার এবং অন্যপাশে সাতটি ছবি। তবে সেগুলো ভাষা শহীদ সালাম, বরকত, রফিক কিংবা জব্বারের নয়। ছবিগুলো মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া বীরশ্রেষ্ঠদের। ব্যানারটির একটি ছবি শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ অন্যরা সমালোচনা করছেন।

রেজওয়ান হোসাইন নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ছবিটি পোস্ট করে বলেছেন, “৫২ ও ৭১ কিংবা রফিক, সালাম, বরকতদের সাথে বীরশ্রেষ্ঠদের পার্থক্য, এতটুকু মনে রাখার জন্য কি আসলেই ইতিহাস নিয়ে পিএইচডি করতে হয়? অথচ আপনারাই নিজেদেরকে দেশের প্রথম শ্রেণির নাগরিক ভাবেন এবং নিজেদের নামের সাথে প্রথম সারির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যাগ লাগিয়ে চলেন। এখানেই শেষ নয়, আবার আপনারাই অন্যদের ব্যানারের ভুল দেখে হাসাহাসি করেন, ট্রল করে মজা নেন। বলি কী, আগে নিজেদেরকে তো শোধরান! একের পর এক যা চলছে ক্যাম্পাসে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে শুধু ট্রল করা ছাড়া কেউ আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে গর্ব করার সাহস পাবে না! খোদা হাফেজ।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে জাপানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত নাদিম মাহমুদ তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশ, সাংবাদিক সবাই ঠিক আছেন। এদেশের যেকোন শিক্ষিত মানুষজনকে বায়ান্নোর ভাষা শহীদের নাম জিজ্ঞাসা করতে বলেন তখন তাদের মুখেই শুনতে পাবেন রফিক, বরকত, সালাম, নূর মোহাম্মদ, হামিদুর রহমান নাম। গুগলে যদি বলেন সধৎঃুৎং ড়ভ ইধহমষধফবংয তখন তো গুগলের এলগারিদমে ছবি আর বায়ান্ন একাত্তর বুঝবে না। মাথায় ভাষা শহীদের ছবি না ভাসলে একাত্তর আর বায়ান্নো তো একাকার হবেই নাকি? মদ্দা কথা রাষ্ট্র তার সূর্য্য সন্তানদের কিভাবে তার নাগরিকদের চেনানোর ব্যবস্থা করছে তার উপর। ছেলেবেলার পাঠ্যপুস্তকের ছবি যে বড়বেলায় মনে থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। হালের চাকরি পরীক্ষায় যদি শহীদদের ছবি চেনা সম্বলিত প্রশ্ন করতো তাহলে বুঝতেন এই জাতির ইতিহাস কতটা পোক্তভাবে জেনেছে!!”

রাবির ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম বলেন, তারা যে কাজটি করেছে তা খুব বড় রকমের ভুল। তাদের এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া দরকার ছিল। সংগীত বিভাগের সভাপতি দীনবন্ধু পাল বলেন, শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের হাতের ফেস্টুনে বীরশ্রেষ্ঠ এবং ভাষা শহীদ সবারই ছবি ছিল। কিন্তু যখন ছবি তোলা হয়েছে তখন হয়ত অংশগ্রহণকারীরা ফেস্টুন নামিয়ে নিয়েছিলেন। তাই হয়ত ভাষা শহীদদের ছবি আসেনি।

ব্যানারে ভাষা শহীদদের ছবি না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ভাষা শহীদ, বীরশ্রেষ্ঠ সবারই ছবি রেখেছিলাম। প্রেসের ভুলে হয়তোবা সব ছবি আসেনি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, “এ রকম একটি ব্যানার করে বিভাগটি নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরের মানুষজনকে আরও সচেতন হতে হবে। আশা করব, সবাই এ বিষয়গুলোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে।”

উপরে