মৎস্যকন্যা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২০; সময়: ১:০১ pm |

বিশাল পাতালপুরী, খিলান, প্রবেশ দ্বার, প্রবাল প্রাচীর,
তোমার বীণায় তান তুলেছ,
মূর্ছনায় মাতে সমুদ্র পাখির দল
মাঝে মাঝে কান পেতে শুনছো শব্দ কোন নরকের
মহাজাগতিক কোন প্রতিধ্বনি প্রথমে শূন্যতা,
পরে বাতাস বেয়ে জলতরঙ্গে ছুঁয়েছে তোমার শ্রাবণ?

বাজে অপরূপ সুর–
হতভাগ্য নাবিকের মনে ভাসে তোমার সোনালী
সবুজ কেশরাজি, অনাবৃত শরীর;
মৃত্যু হয়ে ডাকছ তাকে, ঝাঁপ সে দেবেই জলে।
আমি অশক্ত, ভাসছি ভেলায়,
একান্ত অবহেলায় আমি যেদিন হব শেষ,
কোন পতাকার অর্ধ নমন হবে না,
কোন বেহালায় অন্তিম সুর বাজবে না,
সামুদ্রিক ঘোড়ার দল মিছিল করে ভাসবে না।

তুমিও এক হতাশা –
সামুদ্রিক ড্রাগন চোখের পাতায় ঢেলেছে কালি,
উন্মাদ নাবিকবর্গের আত্মহনন তোমাকে ঘিরে
অথচ জনশ্রুতিতে তুমি সুন্দরী নারী আপ্লুত প্রেমে,
বর্জন করেছ পাখনা লেজ,
অশক্ত অপূর্ণ দু’টি পায়ে হাঁটছ সাগর বেলায়
প্রেমিকের আবির্ভাব লগ্নের প্রতীক্ষা–
অথচ এ প্রেমও পূর্ণতা পাবে না তোমার– উপাখ্যান তাই বলে।

অজস্র খণ্ডে ভেঙ্গে যাচ্ছি, একই আছি?
না জলে ভাসে আমার নকল দেহ?
তোমার আলিঙ্গনে নিমজ্জিত
মৃত নাবিকের শোভাযাত্রায় আমাকে পাবে না,
যদিও জানি এভাবেই হব শেষ
ভোরের বাতাসে সমুদ্র সুবাসে ভাসবে আমার অবশেষ।

 

কবি : ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে