২১ আগস্ট

প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২০; সময়: ৩:২৮ pm |

ত্রিশ বছরেও ঘাতকদের মেটেনি
আশ, পিতাকেও হত্যা করেছে ওরা-
হত্যা করেছে স্নেহময়ী মাকে,
ভাই ও পরিবারের প্রিয় সদস্যরাও
ঘাতকদের বুলেটের শিকার; কী অদ্ভূত
রক্ত পিপাসাকাতর ঘাতক ওরা।

ক্ষমতা হারানো রাষ্ট্রভয় শাসকের বুকে-
পঁচাত্তরেও নেভানো যায়নি যে দীপ;
বাঙালী ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি
রাখবে না বাংলায়- শপথ পরাজিত
ঘাতকের।

সব হারানো- অনন্তকাল চোখ ভাসে যার
কান্নায়, মন ভেঙ্গে যাওয়া মানুষতে কাদের
এত আক্রোশ, কেন এত শত্রুতা?
হায়েনার দল কি এখনো সচেষ্ট? যারা
বাংলার অস্তিত্বকে হত্যা করেছে।

প্রতিহিংসার রাষ্ট্রযন্ত্রের শিকার পিতা ও
উত্তর বংশ পরম্পরা, রাখবে না ওরা- দেশদ্রষ্টার
শেষ চিহ্নখানি।

জনকের হত্যার মাসেই আবারো টার্গেট
গণতন্ত্রের মানস কন্যা। আবারো আগুন,
আবারো গ্রেনেড, রক্তবন্যা, লাশের মিছিল
সারিসারি।

আগস্ট মানেই বাংলাদেশের কলঙ্কিত
অধ্যায়, মানবতার পরাজয়- উল্লাস
হায়েনার।

২১ আগস্ট, বাঙালির অস্তিত্বের মূলে
আরেকটি আঘাত, গণতন্ত্রের পরাজয়,
বীভৎস এক করুণ বিকেল।
সত্য ও শত্রু দুটোই আড়াল-ঘাতকদের
চৌকশ পৃষ্ঠপোষকতায়।

বঙ্গবন্ধু এভিউনিউ পিতার স্বপ্নে লালিত;
আওয়ামী লীগের সমাবেশ; দাবি গণতন্ত্রের,
পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদ; প্রদীপ্ত বক্তৃতা
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার।

রক্তচক্ষু জ্বলে উঠে শত্রুর,
ফুঁসে ওঠে ঘাতকের বুলেট।
তখন বিকেল ৫টা, যা ঘটেছিল
বায়ান্ন, একাত্তর পঁচাত্তরে;
মাত্র দেড় মিনিটে আবারো ওরা
রণাঙ্গন করে দিলো সভাস্থল, শক্তিশালী
কয়েকটি গ্রেনেড বইয়ে দিলো
রক্তের বন্যা।

ভয়াবহতার কী এক নির্বাক দৃশ্য,
হতবিহবল বিশ্ব-কারো হাত নেই,
পা নেই, আইভির সারিতে
নাম জানা ও না জানা ২৩ শহীদ।

গণতন্ত্রের বহ্নিশিখার রক্ত নিবে ওরা-
কিন্তু না, নেতার প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসায়
তৈরী মানব ঢাল-শতশত ত্যাগি মানুষের
রক্তে প্রাণ এলো হাসিনার; রাখে আল্লা
মারে কে-সত্য হলো আরেকবার।

লাশের স্তুপ, আহতদের বুকফাটা আর্তনাদ
অবাক বিশ্ব, কাঁদছে বাংলাদেশ।
অবশেষে জানা গেলো শত্রুর ঘাতক গ্রেনেড
পাকিস্তানি আর্জেস।

কবি-মাহবুব দুলাল
কাব্যগ্রন্থ-‘তুমি অবিনাশী’

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে