বঙ্গমাতা

প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০২০; সময়: ৮:৪০ pm |

উনিশ’শো ত্রিশের আট আগস্ট, ভর দুপুরে
ঝলমলে আলোতে অজপাড়া গাঁর আকাশে
এক ধ্রুবতারার উদয়।
দাদা আবুল কাশেম নাম রাখলেন
ফজিলাতুন নেছা, আর মা আদর করে
ডাকতেন রেনু।

তিন বছর বয়স,
বাবার আদর স্মৃতিতে ঠাঁই না পেতেই
পরপারে চলে গেলেন শেখ জহুরুল।

সেই ছোটকালে পুতুল বিয়ের বয়সও
হয়নি যার; সেদিনের শেখ মুজিব
অনন্তকালের বঙ্গবন্ধু জীবনসঙ্গী হলেন তাঁর।

বঙ্গবন্ধুর জীবনের পলে পলে যার উপস্থিতি,
ভাষা আন্দোলন, ভয়াবহ যুদ্ধ, স্বাধীন
বাংলাদেশ প্রকৃতি নারীর নিরব প্রতিনিধি।

এক সাগর রক্তে স্বাধীন বাংলাদেশ,
অতঃপর নির্যাতিতাদের পুনর্বাসন-
বীরাঙ্গনাদের বিয়ে ছিল জননীর প্রত্যয়।

এরপর ৭৫’র ১৫ আগস্ট মিশকালো রাত,
বাঙালির আজন্ম ভালবাসার কাঙাল বঙ্গবন্ধু;
বুলেটের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত।
শহীদ বঙ্গবন্ধুর তাজা রক্তে ভেজা বাংলাদেশ;
যেন স্বাধীনতার কথা পতাকার কথা
মানচিত্রের কথা বলছে।

নিথর দেহ লুটায়ে সিঁড়িতে, মাতা মহিয়সীর আবদার
হায়েনার দরবারেÑ বঙ্গবন্ধুর সাথেই রাখতে।
স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, পুনর্বাসনে জাতিকে
দিয়েছে প্রাপ্তি আর প্রত্যাশা- বাংলাদেশ নামে
রাষ্ট্রযন্ত্রের সেই পিস্টনও খুন হলো স্বদেশ পিশাচে।

এরপর হায়েনার শরীকদের উল্লাস
ঘটনার পর ঘটনা, রটনার পর রটনা,
ঘোষণার পর ঘোষণা-যেন উলঙ্গ হতে
প্রত্যাশায় হাজার বছরের প্রাপ্তি মেড়ে
মিথ্যার ফুলঝুরিতে নিশান উড়ালো রাষ্ট্রযন্ত্র।

বঙ্গবন্ধুর যৌবনের দিনগুলো কাটে কারাগারে,
বাঙালিকে মুক্তির প্রত্যাশায় স্বামীকে বাঁধেনি
সংসারে। বঙ্গবন্ধুর দুটি অবলম্বন; যার
একটি আত্মবিশ্বাস অন্যটি তাঁর একান্তের রেনু।
অমোঘ ধৈর্যের প্রতীক, একদিকে
সন্তানদের গড়ে তোলা; অন্যদিকে নেতাদের
আতিথেয়তা, জাতির পিতার মুক্তি; সবই তাঁর
জীবন দর্পনে অদম্য দর্শন, বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীনের
স্বপ্নধরার সাথী, পরশে বাংলায় সজীবতা।

নির্ভয় আশ্রয় মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু
পেতেন অকৃত্রিম প্রেরণাÑসাহসÑউৎসাহ ভালবাসা-
সবার অজান্তে একেবারে একান্তে সেই
অমিয় বাণী; শুনেছিলেন অগ্রে- এবারের
সংগ্রাম মুক্তির, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার
সেই মহিয়সী- জাতির পিতার জীবন্ত
ডায়েরি ছিলেন আমাদের বঙ্গমাতা।

কবি-মাহবুব দুলাল

  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে