মহাস্থানে ওরশ শরীফে এভাবেই মাদক সেবন করছে ভক্তবৃন্দরা

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২২; সময়: ৯:২০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, শিবগঞ্জ (বগুড়া) : মহামারী করোনার কারনে গত দুই বছর পরে বিপুল উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যেদিয়ে পালিত হলো মহাস্থানে হযরত শাহ সুলতান বলখী (রঃ) এর এর ওরশ শরীফ ও মেলায়।

বৃহস্পতিবার বৈশাখের শেষ বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক মহাস্থান গড়ে হযরত শাহ সুলতান বলখী (রঃ) এর বিজয় দিবসে যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যেদিয়ে পালিত হয়েছে এ ওরশ ও মেলা। পুলিশ ও প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কিছু স্থানে সাধু সন্ন্যাসীরা নাচ গান আর গাঁজা সেবনের চিত্র ফুটে উঠে এ ওরশ ও মেলায়।

প্রতি বছরের ন্যয়, পুন্ড্র বর্ধনের রাজধানী প্রাচীন ঐতিহ্যের বাহন হিন্দু-মুসলিমদের তীর্থস্থান, বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থান গড়ে হযরত শাহ্ সুলতান বল্খী মাহীসওয়ার (রঃ ) এর মাজার এলাকা বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার এ মেলা বসে। ঐহিতাসিক মহাস্থান গড়ে লাখো নারী পুরুষের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার পালিত হলো এ ওরশ।

দিন শেষে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে মহাস্থান গড়ে অবস্থিত হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহমুদ মাহীসওয়ার (রঃ) এর মাজার ও এর আশপাশের এলাকায় শরিয়ত, মারিফত, তরিকত, হাকিকত, মুরশীদি, ভাওইয়া, ভাটিয়ালীসহ বিভিন্ন ধরনের গান নেচে গেয়ে রাত কাটিয়েছে ভক্তরা।

এ উপলক্ষে দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু জটাধারীদের আগমন ঘটেছিলো এখানে। জটাধারী নারী পুরুষ গানের ফাঁকে ফাঁকে মনের সুখে গাঁজার কলকিতে টান দেয় আর বিভিন্ন ধরনের সিকলি বলে।

এসব দৃশ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন এলাকার জনতা হুমড়ি খেয়ে পড়ে এখানে। তবে মহাস্থান এলাকায় গাঁজার ধুঁয়া বন্ধ করতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। তারা চুপিসারে গাঁজা সেবন করেছে। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করে।

বগুড়া পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এবার শেষ বৈশাখিতে মহাস্থান গড় এলাকায় গাঁজা সেবন তথা সম্পূর্ন মাদকমুক্ত পরিবেশ এবং সার্বিক আইনশৃংখলা বজায় রাখতে সার্বক্ষনিক ম্যাজিস্ট্রেট, বিপুল পরিমান পোষাক ও সাদা পোষাকে পুলিশ, র‌্যাব, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন দায়িত্ব পালন করে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাজার এলাকা সম্পূর্ন গাঁজামুক্ত পরিবেশে এবারের শেষ বৈশাখ পালিত হচ্ছে। পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা অত্যন্ত সতর্ককতার সাথে মহাস্থানে আগত হাজার হাজার মানুষদের তল্লাশী করা হয়েছে।

মহাস্থানগড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সারা দিন ও রাতের কিছু অংশ গোটা এলাকা ছিল উৎসবমুখর। প্রতিবছরের মতো এবারো লক্ষাধিক জিয়ারতকারীর পাশাপাশি জটাধারী পাগলা-পাগলী গঞ্জিকাসেবিদের আগমন ঘটে এই পুর্ণ্যভূমিতে।
হাজার হাজার নারী পুরুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে মহাস্থান মাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছিল ভক্তরা। মাজার-মসজিদ এলাকায় জিকির মিলাদ মাহফিল ও নফল নামাজ নিয়ে মুসল্লিগণ ব্যস্ত থাকছেন।

বৈশাখী উৎসব উপলক্ষ্যে মহাস্থানগড়ের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সহস্রাধিক স্থায়ী ও ভ্রাম্যমান দোকানী তাদের পসরা খুলে বসেছে। বিক্রিও হয়েছে প্রচুর। মহাস্থানগড়ের ঐতিহ্যবাহী কটকটি ভান্ডার গুলিতে বিক্রি হয়েছে বেশ। আশেপাশের গ্রামগুলোতে জামাইদের আগমন ছিল লক্ষ্যণীয়। এ উপলক্ষে মাযারের বিশাল এলাকা জুড়ে মেলা বসে। বৃহস্পতিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লক্ষাধিক নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে। রাত যত বেশি হয় মানুষের স্রোত আরো বাড়তে থাকে।

তবে বিকেল থেকেই মহাস্থান গড় এলাকার আশপাশে পুলিশের চোখ ফাঁকী দিয়ে এ গাঁজার আসর বসে। গত কয়েক বছর আগে থেকে মহাস্থান মাজার মসজিদ কর্তৃপক্ষ গাঁজা সেবনকারীদের মিলন মেলার পরিবর্তে এদিনকে হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র.) এর বিজয় দিবস ঘোষনা করেছে।

শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক কুমার দাস বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিপুল সংখ্যাক পুলিশ সদস্য সদা তৎপর ছিলো। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে। শুক্রবার জুময়ার নামাজ শেষে আগত ভক্ত আশেকানরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে