সুজানগরে ব্যবসায়ীর বাড়ি ও গোডাউনে মিলল ৩১৩৭ লিটার সয়াবিন

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২২; সময়: ৪:৩২ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুজানগর :  পাবনার সুজানগরে এক ব্যবসায়ীর বাসাবাড়ি ও গোডাউন থেকে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা ৩ হাজার একশত সাইত্রিশ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আভিযানিক দল।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সুজানগর পৌর বাজারের নন্দিতা সিনেমা হল রোডের ঘোষ স্টোরের মালিক শ্রী দুলাল ঘোষের বাসা বাড়ি ও গোডাউন থেকে এ তেল উদ্ধার ও জরিমানা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবৈধভাবে সয়াবিন তেল মজুদ রাখার খবর পেয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তররের পাবনার একটি আভিযানিক দল এ অভিযান চালায় ।

এ সময় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ও বিভিন্ন সাইজের প্যাকেটজাত ও বোতলজাত ১ হাজার সাতশত দুই লিটার এবং ১ হাজার চারশত ৩৫ লিটার ড্রাম ভর্তি সয়াবিন তেল উদ্ধার করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রী দুলাল ঘোষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে প্যাকেটজাত ও বোতলজাতকৃত তেল বোতলের গায়ে লেখা পুরোনো মূল্যে স্থানীয় জনতার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এ সময় বৃষ্টি উপেক্ষা করে দীর্ঘ লাইন ধরে সয়াবিন তেল কিনে নিতে দেখা যায় নারী ও পুরুষ সকলকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন পাবনা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম।

এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম দেখিয়ে তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা এবং অবৈধভাবে মজুদ করার অপরাধে ব্যবসায়ী শ্রী দুলাল ঘোষকে একলাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য এর আগে গত ২০১৯ সালের ২০ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১২ অভিযান চালিয়ে শ্রী দুলাল ঘোষের সুজানগর নন্দিতা সিনেমা হল রোডের নিজ বাড়ির কারখানা থেকে থেকে বিপুল পরিমাণ ভেজাল দুধ,মাঠা ও ঘি প্রস্তুতের উপাদান পামওয়েল , সয়াবিন তেল, ভেজাল মাঠা, ভেজাল মাখন, ব্লেন্ডার মেশিন ও লবণ সহ অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করে।

এ সময় শ্রী দুলাল ঘোষ পালিয়ে গেলেও আলাল প্রামানিক ও মিঠুন প্রামাণিক নামে কারখানার দুই শ্রমিককে আটক করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হলে পরবর্তীতে ২৭ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাবনা শহরের এ আর কর্ণার মার্কেট এলাকা থেকে পলাতক মামলার প্রধান আসামী কারখানার মালিক শ্রী দুলাল ঘোষকে নগদ ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং ৩৪০ ভারতীয় রুপি সহ আটক করেছিল র‌্যাব। পরে জামিনে বের হয়ে এসে তিনি কৌশল অবলম্বন করে প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে স্থানীয় চরাঞ্চলের কয়েকটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে আবারো ভেজাল ঘি সহ বিভিন্ন ভেজাল খাদ্যদ্রব্য তৈরি করা শুরু করেন এবং ভেজাল ওইসব খাদ্যদ্রব্য ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে থাকেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এছাড়া বিপুল পরিমাণ তেল, চিনি সহ বিভিন্ন ধরণের পণ্যও অবৈধভাবে মজুদ করে থাকেন বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান। এ বিষয়ে জানতে বুধবার দুপুরে শ্রী দুলাল ঘোষের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে