শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ভুল ব্যক্তি গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: মে ১০, ২০২২; সময়: ১০:৫১ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : রংপুরের পীরগাছায় তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তি অভিযুক্ত মসজিদের ইমাম মাহফুজার রহমান নয় বলে জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

সোমবার (০৯ মে) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১৩ এর মিডিয়া সেলের সহকারী পরিচালক অধিনায়ক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাহমুদ বশির।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত রংপুরের মাহিগঞ্জ এলাকায় ৩ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি মাহফুজার রহমান সন্দেহে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কুষ্টিয়ার রেলস্টেশন এলাকা থেকে যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে অভিযুক্ত মাহফুজার রহমান নয়। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে র‍্যাব।

প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত মাহফুজুর রহমান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চকলেট খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবেশী তিন বছরের একটি শিশুকে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠে।

এ ঘটনায় ওই শিশুর মা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। শিশু ধর্ষণের ঘটনাটি পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করছিল র‍্যাব ১৩।

অভিযুক্ত মাহফুজার রহমান (৩০) স্থানীয় নাগদাহ কেরামতিয়া মসজিদের ইমাম। তিনি বিবাহিত, তার ছয় মাসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মাহফুজার রহমান বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কওমি ও হাফেজিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করেছেন।

এলাকাবাসী ও নির্যাতিত শিশুর পরিবার জানান, গত বৃহস্পতিবার (০৫ মে) বাড়ির পাশে খেলা করছিল তিন বছরের শিশু।

এ সময় প্রতিবেশী মফিজুর রহমান মৌলভীর ছেলে মাহফুজার রহমান চকলেট ও খেলনা দেওয়ার সুযোগে নিজের ঘরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। রক্তক্ষরণ শুরু হলে পালিয়ে যায় সে।

ঘটনার পরের দিন শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পীরগাছা থানা ও মাহিগঞ্জ পুলিশকে জানানো হয়। পরে মাহিগঞ্জ থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে রমেক হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।

ওই ইউপির চেয়ারম্যান নূর আলম জানান, একজন ইমামের এমন জঘন্য অপরাধ গ্রামের সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে। অভিযুক্ত মাহফুজারকে দ্রুত আইনের আওতায় না নেওয়াতে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

কোনোভাবেই সে যেন আইনের ফাঁক গলিয়ে পার না পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

তবে মাহফুজার রহমানের স্ত্রী সাথী বেগম সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছেন, তার স্বামী নির্দোষ এবং ষড়যন্ত্রের শিকার। তাকে এর আগেও এ রকম মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছিল।

এবারও তাকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। মূলত জমি সংক্রান্ত ও পারিবারিক বিরোধের জের থেকেই সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিশু ধর্ষণের অভিযোগ মিথ্যা। মূলত মামলার বাদী বিউটি আক্তারের স্বামী মফিজুল ইসলামের সঙ্গে একটি জমি বন্ধকীর অর্থ লেনদেনের স্ট্যাম্পে সাক্ষী হওয়া ও পরবর্তীতে সেই বিষয় নিয়ে স্ট্যাম্পের বাদী-বিবাদীর ঝগড়া হয়। এতে আমার স্বামী মাহফুজার রহমান বিউটির পরিবারের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন মফিজুল ও বিউটি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে