মান্দায় শ্রমিক সংকটে দিশেহারা কৃষক

প্রকাশিত: মে ৮, ২০২২; সময়: ১২:১৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা : নওগাঁর মান্দায় পুরোদমে চলছে বোরো ধানের কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পাকা ও আধাপাকা ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় পাকা ধান রয়েছে পানির নিচে। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মত ধান কেটে ঘরে তোলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।

কৃষকেরা বলছেন, ঈদুল ফিতরের দিন ভোররাতে হঠাৎ করেই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। সঙ্গে ছিল হালকা বাতাস। ঘন্টাব্যাপী বৃষ্টিতে পাকা ধানের জমিতে পানি জমে যায়। পানিতে নুয়ে পড়ে পাকা ধান। এখন পুরোদমে কাটা-মাড়াই শুরু হলেও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
তাঁরা আরও বলেন, খাবার দিয়ে একবেলা কাজের জন্য একজন শ্রমিক মজুরী দাবি করছেন ৬০০ টাকা। এতে প্রতিবিঘা জমির ধান কাটা-মাড়াই করে ঘরে তুলতে খরচ হবে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। ফসল কেটে সময়মত ঘরে তোলা না গেলে ফলন বিপর্যয়েরও আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৯ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে রোরো ধানের চাষ হয়েছে। ব্রি-ধান ৮১, ব্রি-ধান ২৮, জিরাশাইল, ব্রি-ধান ৫৭সহ হাইব্রীড জাতের বেশকিছু ধানের আবাদ করেছেন কৃষকেরা। এছাড়া বেশ কয়েকটি প্রদশর্নী প্লটে প্রথমবার চাষ হয়েছে বঙ্গবন্ধু ধান ১০০। এ চাষ থেকে চলতি মৌসুমে এক লাখ মেট্রিকটন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, এবারে তিনি ৮ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। সবগুলো জমির ধান কাটার উপযুক্ত সময় চলে যাচ্ছে। বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে জমির পাকা ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে। কিন্তু শ্রমিক না পাওয়ায় ধান কাটা ও মাড়াই করা সম্ভব হচ্ছে না। একবেলা কাজের জন্য একজন শ্রমিককে ৬০০ টাকা মজুরী হাঁকানোর পরও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে আর কয়েকদিন পার হলে পাকা ধান জমিতেই নষ্ট হয়ে যাবে। ফলনও ব্যাপকহারে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের কৃষক অমল চন্দ্র সরকার বলেন, এক বিঘা জমির ধান কাটা-মাড়াইয়ের জন্য সাড়ে ৩ মণ ধানের মজুরীতে শ্রমিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তি অনুযায়ী তিন বিঘা জমির ধান কেটে ছেড়ে দিয়েছে শ্রমিকেরা। দফায় দফায় বৃষ্টিতে জমিতে ছেড়ে দেওয়া ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কিন্তু তাঁরা আর কাজে আসছে না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আশপাশের এলাকায় শ্রমিকদের মজুরী বাড়িয়ে দিয়েছেন কৃষকেরা। এতে চুক্তিবদ্ধ অনেক কৃষক চরম বেকায়দায় পড়েছেন। শ্রমিকেরা চুক্তিবদ্ধ কৃষকের কাজ না করে অন্যত্র বেশি মজুরীতে কাজ করছেন তাঁরা।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন বলেন, এবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধানে চিটার পরিমাণ বেড়ে গেছে। এতে প্রতিবিঘায় ফলন কমতে পারে দুই থেকে আড়াই মণ হারে। বিশেষ করে জিরাশাইল ও ব্রি-ধান ২৮ এ ব্যাপক ফলন বিপর্যয় হবে।

তিনি আরও বলেন, উপজেলায় পুরোদমে কাটা-মাড়াইয়ের কাজ চলছে। এক সঙ্গে সব এলাকায় কাজ শুরু হওয়ায় শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে এ সংকট আর থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে