মেডিক্যালে ভর্তির সুযোগ পেলেও হতাশায় দিন গুনছে জয়পুরহাটের স্মৃতি

প্রকাশিত: মে ১, ২০২২; সময়: ৪:০২ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, জয়পুরহাট : বাবা কাজ করেন অন্যের বাড়িতে তাই কোনো রকম দু’বেলা খাবার যোগাতেই হিমসিম অবস্থা। পরিবারের খরচ চালাতেই যেখানে কাহিল সেখানে মেয়ের পড়ালেখার খবর নেওয়ার সুযোগ কোথায় তার। এত অবহেলার পরেও মেয়ে যখন মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে তখন আনন্দে আত্মহারা বাবা।

কিন্তু এই আনন্দ আবার বিষাদে পরিণত হয়েছে। কলেজে ভর্তি আর পড়ালেখার খরচের চিন্তা মাথায় নিয়ে এখন হতাশার দিন গুনছে হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া জয়পুরহাটের হরিপুর গ্রামের স্মৃতি পারভিনের পরিবার।

চেয়ার-টেবিলে বসে পড়ালেখার সুযোগ ঘটেনি গ্রামের মেধাবী ছাত্রী স্মৃতি পারভিনের। শো’বার ঘরের খাটে বসে এভাবেই করেেত হয়েছে সবধরনের পড়ালেখা। শিক্ষা জীবনে কোন সমস্যার কথায় তুলে ধরেনি দিনমজুর বাবার কাছে। তবে কোন সমস্যা দমিয়ে রাখতে পারেনি এই মেধাবী ছাত্রীকে।

অর্থাভাবে রাজশাহীতে গিয়ে কোচিং করার সামর্থ না থাকায় শুধু অনলাইনে কোচিং করেই ছিনিয়ে এনেছে ছাত্র জীবনের সেরা সাফল্য। ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ৭৩.৫ নম্বর পেয়ে হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা হরিপুর গ্রামের আলাউদ্দিন ও শাহানাজ পারভিন দম্পতির দুই মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান স্মৃতি পারভিন। স্মৃতির বাবা দিনমজুর আর মা গৃহিণী। সে হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালে এসএসসি ও জয়পুরহাট সরকারি কলেজ থেকে ২০২১ সালে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, স্মৃতির বাবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বসতভিটা ছাড়া তার ১৩ শতক আবাদি জমি রয়েছে। ওই জমিতে যে ফসল আবাদ হয় তা দিয়ে দিনমজুরের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চলে।
ইতিমধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে জয়পুরহাট সরকারি কলেজে যাওয়া শুরু করতেই আলাউদ্দিনের কষ্ট বেড়ে যায়। প্রতিদিন মেয়েকে কলেজে যাতায়াত খরচ বাবদ ২৫-৩০ টাকা করে দিতেন।
এ টাকা দিয়েই কষ্ট করে স্মৃতি কলেজে পড়াশোনা করেছে। এর মধ্যে একটি বেসরকারি এনজিও থেকে শিক্ষাবৃত্তি হিসেবে চব্বিশ হাজার টাকা পাওয়ায় কষ্ট কিছুটা কমে আসে।

স্মৃতি পারভিন বলেন, আমার টেবিলে বসে পড়ালেখার সুযোগ হয়নি। শো’বার ঘরের খাটে বসেই আমি পড়াশোনা করেছি। আর এভাবেই সবধরনের পড়াশোনা করতে হয়েছে।

স্মৃতি আরও বলেন, শিক্ষা জীবনে কোনো সমস্যার কথায় আমি তুলে ধরেনি বাবা মার কাছে। আমি বাসায় বসে শুধু অনলাইনে কোচিং করেই ভর্তির সুযোগ পেয়েছি হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজে। জানি না সেই মেডিক্যালে ভর্তি হতে পারব কি না? বাবা-মা আমাকে পড়াশোনা করাতে পারবে কি না সেটি নিয়ে শংকায় আছি। শিক্ষা জীবন শেষে তাই গরিব রোগীদের সেবা করতে চায় এই মেধাবী ছাত্রী।

স্মৃতির বাবা-মা বলেন, আমার নিজের জমি না থাকায় অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করি। সেই টাকা দিয়ে আমি সংসার চালাই পাশাপাশি মেয়েকে পড়াশোনা করাতাম। মেয়ের ডাক্তারি পড়ার সুযোগে খুশি হলেও বিচলিত পড়া লেখার খরচ নিয়ে তারা। মেয়েকে ডাক্তার বানানোর জন্য তাই বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছেন স্মৃতির বাবা-মা।

স্মৃতির স্কুল শিক্ষক শাহআলম ও প্রতিবেশী কয়েকজন বলেন, স্মৃতির অদম্য মেধার প্রতি শ্রদ্ধা জানায় আমরা সবাই, তারা বলছেন মেয়েটি আমাদের এলাকার গর্ব, অর্থের অভাবে এমন মেধা যেন ঝড়ে না পড়ে সেজন্য তাকে সহযোগিতা করা দরকার বলে মনে করছেন সবাই।

ভাদসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন স্বাধীন বলেন, স্মৃতির পড়া লেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিত্তবান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসা উচিৎ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে