মান্দায় ঈদে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২২; সময়: ২:৩০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা : নওগাঁর মান্দায় ঈদকে সামনে রেখে আবারও আগুন ধরেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে সবজি, পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা মরিচের কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। ডাবল সেঞ্চরী স্পর্শ করেছে ভোজ্যতেল। এতে নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

ভোক্তাদের অভিযোগ, নিত্যপণ্যের বাজারে ফায়দা লুটছে মধ্যস্বত্তভোগীরা। এছাড়া বিভিন্ন বাজারে গড়ে উঠেছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটের কারণে হাটে কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্য খুচরা বাজারে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করতে পারছেন না। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে একদিকে যেমন নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকেরা। অন্যদিকে দামেও ঠকছেন ভোক্তারা।

সরেজমিনে আজ শনিবার দেলুয়াবাড়ি পাইকারী বাজারে গিয়ে দেখা গেছে বেগুন প্রকারভেদে ৩৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া করল্যা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পটল ১৭ থেকে ১৮ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এদিন পাইকারী হাটে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ২৫ থেকে ২৭ টাকা, রসুন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

একই হাটে খুচরা বাজারে বেগুন ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, দেশি আলু ২০ টাকা, করল্যা ৫০ টাকা, ও রসুন ৬০ কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া সরিয়ার তেল প্রতি লিটার ১৯০ টাকা ও খোলা সয়াবিন ২০০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার বারিল্যা গ্রামের কৃষক মনছের আলী জানান, শনিবার দেলুয়াবাড়ি পাইকারী হাটে এক মণ বেগুন বিক্রি করেন ২০০০ টাকায়। যা এক কেজির মূল্য দাঁড়ায় ৫০ টাকা। এ বেগুন খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। একই হাটের দুই বাজারে দামের এত ব্যবধানে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বেগুন উৎপাদনে সার, পানি সেচ ও কীটনাশক প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যাপক পরিচর্যা করতে হয়। আমার কাছ থেকে নেওয়া বেগুন একই হাটের খুচরা বাজরে কেজিতে ২০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এভাবে বরাবরই কৃষকেরা নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ভোক্তা দোডাঙী গ্রামের মফিজ উদ্দিন বলেন, আগে হাটে কৃষকেরা নিজেদের পণ্য খুচরা বিক্রি করতেন। এতে ক্রেতারা বিভিন্ন পণ্যে অনেক সাশ্রয় পেতেন। কিন্তু এখন কৃষকদের সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য খুচরা বিক্রি করতে দেওয়া হয় না। সিন্ডিকেট করে ভোক্তাদের কাছে বেশি মূল্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নুরুল্লাবাদ গ্রামের অটোচার্জাার চালক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আমার আয় সীমিত। আটোচার্জার চালিয়ে যা পাই তা দিয়েই সংসার চলে। ঈদেও বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়ে চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছে। যে জিনিস কিনতে যাচ্ছি সেখানেই দাম অনেক বেশি চাওয়া হচ্ছে। ঈদের বাজারে ভীড় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত জিনিসপত্রে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। সয়াবিন তেলের দাম এখনও নিয়স্ত্রণ করতে পারেনি সরকার।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে