নওগাঁয় সারারা-গারারা ও কাঁচা বাদামে জমে উঠেছে ঈদ বাজার

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২২; সময়: ১১:১০ am |

নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ : সারারা-গারারা ও কাঁচা বাদামে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। নওগাঁ শহরের বড় শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে বেড়েছে বিকিকিনি। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ক্রেতাদের ভীড় বাড়ছে। বেচাকেনাও ততই বাড়ছে বলে জানান দোকানীরা।

শহরের বিপনিবিতানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, পোশাকের দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ক্রেতাদের ভীড়। ভীড় থাকে মধ্যরাত পর্যন্ত। ভীড় সামাল দিতে দোকানী ও কর্মচারীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

করোনাভাইরাসে গেল দু’বছর ব্যবসায় মন্দাভাব গেলেও এ বছরের শুরু থেকেই চলছে বেচাকেনা। এ বছর ছেলের পছন্দের তালিকা জিন্স প্যান্ট ও প্রিন্টের শার্ট, পাঞ্জাবি ও কাবলি। আর মেয়েদের পোশাকের মধ্যে সারাগা-গারাগা এবং কাঁচা বাদাম পোশাকের চাহিদা রয়েছে।

ঈদ এলেই শপিংমলগুলোতে দেশী পোশাকের পাশাপাশি আধিপত্য দেখা যায় ভারতীয় ও পাকিস্থানিসহ নানান ধরণের বিদেশি পোশাকের। এবার ঈদ বাজারেও বাহারি নামের কিছু ভারতীয় পোশাক আর্কষণ করেছে নারীদের। কিশোরী ও তরুনীরা মজেছে সারারা আর গারারা নামের ভারতীয় পোশাকে।

শহরের তৈরী পোষাকের জন্য অভিজাত বিপনী বিতানগুলোর মধ্যে নওগাঁর কাপড়পট্টি, গীতাঞ্জলি শপিং প্লাজা, আনন্দ বাজার, ক্রিসেন্ট মার্কেট, বসাক শপিং কমপ্লেক্স, দেওয়ান বাজার, শুভ প্লাজা, জোসনার মেলা, শাপলা ক্লথ ষ্টোর, কুমারখালি বস্ত্রালয়, ইসলাম মার্কেট, জহির প্লাজা, সৌদিয়া সুপার প্লাজা, মাজেদা সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে জমে উঠেছে ঈদবাজার।

নওগাঁ পৌরসভার বাসিন্দা মোস্তাক। তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে সেলস অফিসার হিসেবে চাকুরি করেন। শহরের দেওয়ান বাজারে মাকে নিয়ে আসছেন বাজার করতে। তিনি বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমূখী। পোশাকের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। পোশাকের দাম একটু কমের মধ্যে থাকলে মধ্যবিত্তদের জন্য অনেকটা ভাল হতো।

শহরের হাট- নওগাঁ বাসিন্দা পাখি। পড়াশুনা করছেন উচ্চ মাধ্যমিকে। এ বছর তার পছন্দের তালিকায় গারারা। তিনি বলেন, ঈদে পোশাকের জন্য চার হাজার টাকা বাজেট করেছি। এরমধ্যে একটা গারারা ও একটি থ্রিপিস। প্রকারভেদে গারারা বিভিন্ন দোকানে বিভিন্ন দাম। দোকানদার অনেক দাম বলছেন। আমরা একটা দাম বলায় বিরক্তবোধ করছেন। যা হোক অনেক খুঁজে ২৫০০ টাকা দিয়ে গারারা কিনেছি। পছন্দের পোশাক পেতে ভীড়ের কারণে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

শহরের দেওয়ান বাজাররের আনিকা ফ্যাশন এর স্বত্বাধীকারী আবির বলেন, করোনা ভাইরাসের মধ্যে দোকান ঠিকমতো চালু রাখা সম্ভব হয়নি। বেচাকেনা ছিল অনেক কম। এ কারণে অনেক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। প্রতিটি দোকানেই ঈদের বাজার কেন্দ্রিক ব্যবসা দিয়ে সারা বছরের বিক্রি হিসাব করা হয়। মৌসুমের অন্য সময় কম বিক্রি হলেও ঈদে তা পুষিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু এ বছর আমরা অনেক খুশি। রমজানের শুরু থেকেই বেচা বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারাও পণ্য কিনতে ভীড় করছেন।

স্বর্ণা গার্মেন্টের প্রোপ্রাইটর সোহেল হোসেন বলেন, এ বছর পোশাক বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আগের তুলনায় কাপড় অনেকটা কোয়ালিটি সম্পূর্ন মনে হচ্ছে। ক্রেতারা পোশাক পছন্দ করছেন। কিন্তু দামের দিক দিয়ে ক্রেতার সঙ্গে অনেক কথা বলতে হচ্ছে। কেন এতো দাম। তারপরও বিক্রি হচ্ছে। আর কয়েকদিন বাদেই ঈদ। একারণে ক্রেতারে অনেক চাপ। তবে সবকিছু ঠিক আগে গেল দু’বছরের লোকসান পুশিয়ে নিতে পারবেন বলে আশাবাদী।

শহরের অভিজাত দোকান শিলা মনি’র মালিক নেপালচন্দ্র ঘোষ বলেন, করোনাভাইরাসে গত দুই বছর বেচাকেনা ভাল হয়নি। তবে এ বছর রমজানের শুরু থেকেই বেচাকেনা শুরু হয়েছে। ক্রেতারা নিত্য নতুন ডিজাইনের পোশাক কিনছেন। ক্রেতাদের পছন্দের বিষয় মাথায় রেখেই নতুন মডেল পোশাক সংগ্রহ করা হয়েছে। ছেলেদের শেরওয়ানী ও পাঞ্জাবি ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকা, বাচ্চাদের পোশাক ৮০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা। মেয়েদের ক্ষেত্রে ভারতিয় পোশাক সারারা-গারারা, লেহাঙ্গা, ডিভাডার ও থ্রিপিস। দাম ৫০০ টাকা থেকে ৪৫০০ টাকার মধ্যে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে