প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেলেন সৌদি প্রবাসী আদরি খাতুন

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২২; সময়: ১০:২৩ am |

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাণীনগর : স্বামী পরীত্যাক্তা দিন মজুর শেফালী বিবি। ১৩/১৪ বছর আগে তিন মেয়েসহ রেখে চলে গেছেন স্বামী। মেয়েদের নিয়ে থাকেন বোনের জায়গায় কঞ্চির এক বেড়া ঘরে। বড় মেয়েটা বিবাহ যোগ্য হয়েছে। কিন্তু নিজের জায়গা নেই,ঘর নেই। মেয়েকে বিবাহ দিতে পারছেননা।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধান মন্ত্রীর দেয়া ঈদ উপহারের ঘর পাওয়ার এক বুক আসা নিয়ে আবেদন করেছিলেন। ভেবেছিলেন ঘর পাবেন ! এবারই মেয়েকে বিয়ে দিবেন। কিন্তু না তিনি ঘর পাননি। ঘর পেয়েছেন একই গ্housরামের আলাউদ্দীনের মেয়ে সৌদি আরব প্রবাসি আদরি খাতুন। আদরী প্রায় দুই বছর যাবৎ সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

কথাগুলো বলছিলেন,রাণীনগর উপজেলার আমিরপুর গ্রামের দিনমজুর শেফালী বিবি। তবে বিদেশের মাটিতে থেকেও প্রধান মন্ত্রীর উপহারের ঘর পাওয়া নিয়ে এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ঠদের গাফিলতির কারনেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন এলাকাবাসি।ঘটনাটি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামে।

বুধবার দুপুরে এমন ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়নের আমিরপুর চাঁচকৈ গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় সৌদিআরব প্রবাসি আদরি খাতুনের মা আমেনা বিবির সাথে।

তিনি বলেন,প্রায় ৫বছর আগে মেয়ে আদরি খাতুনের বিয়ে হয়েছিল চিলাহাটিতে। আড়াই বছর ঘর সংসারে জন্ম হয় এক পুত্র সন্তানের। এর পর গত আড়াই বছর আগে সংসার ভেঙ্গে যায় আদরির। সে সময়ই আদরিকে সৌদি আরবে পাঠান পরিবারের লোকজন। সেখানেই আছেন এখনও। সেই সুবাদে বেশ কিছু ধানের জমি নিয়েছেন। এমৌসুমে প্রায় ৭/৮ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন আদরির পরিবার। বাড়ীতে দুইটি হাল চাষের পাওয়ার টিলার রয়েছে।

এছাড়া ছোট-বড় গরু আছে আরো চারটি। এরই মধ্যে মেয়ে আদরির নামে প্রধান মন্ত্রীর উপহারের ঘর পাবার জন্য আবেদন করেন মা আমেনা বিবি। তিনি বলেন,স্থানীয় তহশীলদারের সাথে কথা বলে আবেদন করেছিলেন। গত মঙ্গলবার প্রধান মন্ত্রী জায়গা ও গৃহ হস্তান্তরের উদ্বোধন করলে মেয়ে আদরির নামে ঘরের দলিল হাতে পান। তিনি বলেন,স্বামী পরিত্যাক্তা মেয়ে বিদেশ থেকে বাড়ীতে এসে কোথায় থাকবে। তাই একটি ঘর নিয়েছি।

মঙ্গলবার আশ্রয়ন প্রকল্প-২এর আওতায় “ক” শ্রেনী পরিবারের জন্য তৃতীয় পর্যায়ে রাণীনগরে ৪১জন ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে প্রধান মন্ত্রীর উপহারের ঘরের দলিল হস্তান্তর করা হয়।

এব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ওহিদুর রহমান বলেন,আদরির মা আমেনা বিবি ভূমিহীন সার্টিফিকেট এবং প্রত্যয়নপত্র নেয়ার জন্য পরিষদে আসলে আমি চেয়ারম্যানকে বলেছিলাম যে সে কিন্তু ভূমিহীন নয়। তার মেয়ে সৌদি আরবে থাকে। তিনি আরো বলেন,আমার গ্রামে অনেক অসহায় ভূমিহীন রয়েছেন। তারা আবেদন করেও ঘর পেলেননা অথচ ভূমিহীন না হয়েও বিদেশের মাটিতে বসে থেকে ঘর পেয়েছেন। কিভাবে ঘর পেয়েছেন তা তদন্ত করার দাবি জানান তিনি।

বড়গাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, স্থানীয় মেম্বার যে আমাকে বলেছিল তা আমি বুঝতে পারিনি কিন্তু প্রত্যয়নে স্বাক্ষকর করে দিয়েছি। তার পরেও বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে।

এব্যাপারে আবেদন যাচাই করে সরেজমিন তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলকারী কর্মকর্তা স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,আদরি সৌদি আরবে আছেন। আগামীকাল দেশে ফিরবেন। আদরি স্বামী পরিত্যাক্তা ও বিদেশে নির্যাতনের স্বীকার। এমনটি স্থানীয় লোকজন ও একজন সাবেক মহিলা মেম্বারের সুপারিশে আদরির ঘর পেতে সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

দাখিলকৃত আবেদন যাচাই-বাছাই ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বন্দোবস্ত কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ হাফিজার রহমান বলেন,আবেদনের সাথে ভূমিহীন সার্টিফিকেট দেয়া আছে। তার পরেও এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলার অনুরোধ জানান। রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে