শারীরিক সর্ম্পকের প্রলোভনে ডেকে নিয়ে সাবেক স্বামীকে হত্যা

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২২; সময়: ১:১২ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : পরকীয় প্রেমের ঘটনাটি জানজানি হওয়ায় ফরিদা বেগমকে (৪৫) তালাক দেয় তার স্বামী মিনু বেপারী। পরে প্রেমিক লাভলুর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

তবে বিবাহের ছয়দিন পরেই ফরিদা বেগমকে তালাক দেয় লাভলু। তালাক দেয়ার পরেও নিয়মিত ঘনিষ্ঠ হতো লাভলু-ফরিদা। অবশেষে এই সম্পর্কের জেরেই লাভলুকে খুন হতে হয়।

ঘটনাটি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বৃষ্ণপুর গ্রামের। এই হত্যাকাণ্ডে ছয় বছর পর সেই ফরিদা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে সে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ও বর্ণনা দেয় সে। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের নামও প্রকাশ করে ফরিদা। তার জবানবন্দি অনুযায়ী আব্দুল গফুর (৪০) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফরিদা বৃষ্ণপুর গ্রামের ফজর উদ্দিনের মেয়ে। তাকে গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গাজীপুরের জয়দেবপুর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে সোমবার (২৫ এপ্রিল) তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল গফুর বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বামুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাকে সোমবার রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালের ১০ জুলাই রাতে লাভলু সরকারকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। বৃষ্ণপুর গ্রামের একটি মেহগনি বাগানে ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রলোভন দিয়ে তাকে ডেকে নেয় ফরিদা। পরে সহযোগীদের নিয়ে হাত-পা চেপে ধরে শ্বাসরোধে লাভলুকে খুন করে। পরদিন সকালে ওই বাগান থেকে লাভলুর লাশ উদ্ধার হয়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একই বছরের ১৩ আগস্ট নিহত লাভলুর স্ত্রী নুর জাহান খাতুন (৩০) শিবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্ত শুরু করে পিবিআই। নিহত লাভলু বগুড়া সোনাতলা উপজেলার বামুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন।

বগুড়া পিবিআইর পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন জানান, লাভলুকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ফরিদা বেগমকে লাভলু তালাক দিলেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তারা। ছাড়াছাড়ি হওয়ার পরেও লাভলু ফরিদা বেগমকে বিভিন্নভাবে জিম্মি করে তার সঙ্গে নিয়মিত ঘনিষ্ঠ হত।

সর্বশেষ ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রলোভনে লাভলুকে ডেকে এনে হত্যা করেন ফরিদা। এই হত্যাকাণ্ডে পর থেকেই ফরিদা নিজ গ্রাম ছেড়ে অন্যান্য জেলায় পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যমতে আব্দুল গফুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আব্দুল গফুরকে আদালতের মাধ্যমে কারগারে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে