রাজমিস্ত্রির ছদ্মবেশে জঙ্গিদের সংগঠিত করছিলেন সানোয়ার

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২২; সময়: ৯:১৪ pm |

মাসুদ রানা, পত্নীতলা : চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিষিদ্ধ জঙ্গি দল জেএমবির অন্তর্কোন্দলে সংগঠনটির নেতা রুহুল আমীন সালমানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সানোয়ার হোসেন ওরফে আব্দুর রউফকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ)।

বিশেষায়িত এ বাহিনীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান বলছেন, গত এক দশক ধরে কখনও রাজমিস্ত্রি, কখন মেষপালকের ছদ্মবেশে আত্মগোপনে থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় জেএমবিকে সংগঠিত করে আসছিলেন সানোয়ার। জেএমবির ইসাবা (সামরিক) শাখার সদস্য সানোয়ারকে (৪৪) শনিবার সন্ধ্যায় নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার ছোট চাঁদপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রোববার দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন এটিইউর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আখিউল ইসলাম। নওগাঁর পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জেএমবির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল সংগঠনের স্বঘোষিত আমির সালমানকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের এক আমবাগানে হত্যা করা হয়।সালমান ছিল সানোয়ারের ভগ্নিপতি।

২০০৭ সালের ২৯ মার্চ কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমানের ফাঁসি কার্যকর হলে কিছুদিন পর মাওলানা সাইদুর রহমান জেএমবির আমির হন। ওই সময় সালমান নিজেকে সংগঠনের আমির ঘোষণা করলে নিজেদের মধ্যে কোন্দল শুরু হয়। তারই এক পর্যায়ে নাচোলের চানপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে খুন হন সালমান। পরদিন সকালে স্থানীয় একটি আম বাগান থেকে সালমানের মুণ্ডুহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এটিইউ এর পুলিশ সুপার আসলাম খান বলেন, সালমানকে হত্যার সময় সানোয়ারই তার পা চেপে ধরেছিলেন। “হত্যার পর দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। মাথা ও দেহ ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয় আ. শাকুর ও জাহাঙ্গীর। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহানন্দা নদীর তীর থেকে পুঁতে রাখা সালমানের মাথাটি উদ্ধার করা হয়।”

এ ঘটনায় সানোয়ার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর ওই মামলায় সানোয়ারসহ তিন জনের ফাঁসির রায় হয়।

আসলাম খান বলেন, সানোয়ার জেএমবির ‘প্রথম সারির’ সদস্য। তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুরু থেকেই খুঁজছিল, কিন্তু পাচ্ছিল না। সম্প্রতি এটিইউয়ের কাছে খবর আসে, সানোয়ার নওগাঁ জেলার পত্নীতলা থানার ছোট চাঁদপুর এলাকায় ‘আব্দুল্লাহ’ নামে আত্মগোপন করে আছেন। সেখানে সে রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করছে এবং ভেড়া লালনপালন করে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখান থেকে শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসলাম জানান, সানোয়ার ২০০০ সালের পরে শায়খ আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে জেএমবির সদস্যভুক্ত হয়। তখন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে তিনি নাচোল ও গোমস্তাপুরে জেএমবির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আত্মগোপনে থাকার সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তিনি যোগাযোগ রাখেননি জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তারের পর সানোয়ারকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে