সড়কের ধুলায় জন-জীবন অতিষ্ঠ

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২২; সময়: ১:৪৮ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, বড়াইগ্রাম : নাটোরের বড়াইগ্রামে চলমান সড়ক উন্নয়ন কাজের ধীরগতির ফলে সৃষ্ট ধুলায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সড়কের ধারের বাড়ির মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। ইটের খোয়া বিছানোর পরে কার্পেটিং না করায় ইটের ধুলায় ইতিমধ্যে অনেকে ডাষ্ট এলার্জিতে আক্রান্ত হয়েছেন।

একই সাথে বাড়ির এবং পাশ্ববর্তী দোকানের মালামাল ধুলার আস্তরণ পড়ে ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়ছে। তাই দ্রুত উন্নয়ন কাজ শেষ করার দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা।

উপজেলা স্থাণীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জোনাইল বাজার থেকে রাজাপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে। ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শহীদ ব্রাদার্স ২০ কোটি ৫২ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি পেয়েছেন। তার প্রতিনিধি হিসেবে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শরীফুল ইসলাম রমজান কাজটি করছেন।

তিনি শুরুর বছরেই ক্ষতিগ্রস্থ কার্পেটিং তুলে নতুন করে ইটের খোয়া কন্সুলেশন করেছেন। শুরুতে পানি ছিটিয়ে দুরমুস করা থাকায় ভালোই চলছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন কার্পেটিং না করায় এখন বিচ্ছিন্ন ভাবে খোয়া উঠেগেছে । একই সাথে গাড়ী চলাচলের ফলে ইটের কুচি ধুলায় পরিনত হয়েছে।

ফলে সামান্য বাতাস বা যেকোন প্রকার জানবাহন চলাচলে প্রচুর ধুলা উড়ে। এতে ওই পথে চলাচলকারী যাত্রী, সড়কের পাশের ঘর-বাড়ি, দোকান-পাট ধুলাময় হয়ে পড়ছে। একই সাথে নানারোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।

চান্দাই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বলেন, এই সড়কের ধারে আমাদের গাড়ফা বাজারসহ কুশমাইল, দিয়ারগাড়ফা, দাশগ্রাম, চান্দাই বাজার এবং মোড়ে মোড়ে রয়েছে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সড়ক উন্নয়নে আমাদের মনে খুশির সঞ্চার করেছিল। এখন সেটা বেদনায় পরিনত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারছেন না। কোন বাড়িতে মালামাল রেখে শান্তি হচ্ছে না।

বটতলা বাজারের সাইফুল, গাড়ফা বাজারের সাইদুল, দাশগ্রাম বাজারের জহুরুল ইসলামসহ বিভিন্ন বাজারের মুদিসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, সরকার টাকা দিয়ে সড়ক ভালো করতে। এভাবে বছর ধরে ধুলার মধ্যে রেখে আমাদের ব্যবসা নষ্ট করার জন্য নয়। শুনেছি কার্পেটিং করতে দেরি হলে সড়কে নিয়মিত পানি ছিটানোর কথা। কিন্তু গত দেড় বছরে একরাও সেটা করতে দেখিনি। বড় নেতার কাজ তাই জোড়ে প্রতিবাদ করার সাহসও পাই না।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্থাণীয় প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম রমজান বলেন, কারোনা মহামারি ও দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কারনে কাজে একটু সময় লেগেছে। ঈদের পরেই কার্পেটিং শুরু করার ইচ্ছে আছে। আর পনি ছিটানোর বিষয়ে তিনি বলেন তীব্র তাপদাহের কারনে পানি ছিটিয়ে কোন সুফল হয় না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আশাদুজ্জান বলেন, দীর্ঘদিন ধুলার সংস্পর্শে থাকলে ডাষ্ট এলার্জি এবং শ্বাশনালীতে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এছাড়া নানা ধরণের রোগের সৃষ্টি হতে পারে।

উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল আলম বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ শেষ করতে একাধিকবার তাগিদ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) চুক্তির মোতাবেক কাজ শেষ হওয়ার তারিখ। এছাড়া কার্পেটিং করার আগে নিয়মিত সকাল-বিকেল পানি ছিটানোর কথা রয়েছে। এ বিষয়েও তাদেরকে তাগিদ দেয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।*

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে