কাঁচা আমের পর এবার তরমুজের জিলাপি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২২; সময়: ১:৩০ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : রাজশাহীতে তৈরি কাঁচা আমের জিলাপি সারা দেশে সাড়া ফেলার পর এবার খুলনায় শুরু হয়েছে তরমুজের জিলাপি তৈরি।

এরইমেধ্যে খুলনার তরমুজের জিলাপি সাড়া ফেলেছে এলাকায়। সে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে তরমুজের তৈরি জিলাপি নিয়ে।

অবশ্য আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনাও রয়েছে এটি নিয়ে। অনেকেই দাবি করছেন, ফুড কালার ও ফ্লেভার মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে এই জিলাপি। তবে জিলাপি বিক্রেতার দাবি, তিনি কোনো রং ও ফ্লেভাব ব্যবহার করছেন না। সরাসরি তরমুজ ব্লেন্ড থেকেই তৈরি করছেন জিলাপি।

খালিশপুরে চিত্রালী সিনেমা হলের সামনে ‘ইসলামিয়া মিষ্টি ঘর’ নামে একটি দোকানে তৈরি করা হচ্ছে এ জিলাপি।

শুক্রবার (১৫এপ্রিল) বিকেলে দোকান মালিক আবদুস সোবহানের সঙ্গে কথা হয়।

তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে কাঁচা আমের জিলাপি দেখে আমারও নতুন কিছু উদ্ভাবন করা ইচ্ছা হয়। তখন মাথায় আসে তরমুজের বিষয়টি। ১৩ এপ্রিল সকালে আমরা তরমুজের লাল অংশ ব্লেন্ড করে জুস তৈরি করি। তার সঙ্গে ময়দা ও বেসন মিশিয়ে জিলাপি তৈরি করি। বিষয়টি ওই দিনই সাড়া পড়ে যায়।’ ‘রাজশাহীতে বেশি আম পাওয়া যায়, সেখানে কাঁচা আমের জিলাপিতে বেশ সাড়া পড়েছে। আমি কাঁচা আমের জিলাপির খবর শুনে তৈরি করে ফেললাম কাঁচা আমের জিলাপি।

পরে মনে পড়ল আমাদের খুলনাঞ্চলে প্রচুর তরমুজ পাওয়া যায়। তখন তরমুজের জিলাপি তৈরির বিষয়টি মাথায় আসে।’

যদিও শুক্রবার রাজশাহীতে রসগোল্লা নামের ওই মিষ্টির দোকানে অভিযান চালিয়ে রং ও ফ্লেভার দিয়ে আমের জিলাপি তৈরির অভিযোগে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অবশ্য মালিকের দাবি, তারা ৫ শতাংশ আম দিচ্ছেন যা তারা আগেই ঘোষণা দিয়েছেন। তখন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কোনো আপত্তি করেনি।

তরমুজ দিয়ে জিলাপি তৈরির উদ্যোক্তা সোবহান বলেন, ‘তরমুজের পাশাপাশি কাঁচা আমের জিলাপিও তৈরি করছি। সাধারণ জিলাপির থেকে ব্যতিক্রমি এই দুই প্রকার জিলাপি তুলনামূলক বেশি বিক্রি হচ্ছে।’

তিন জানান, ১৩ এপ্রিল তরমুজের ১০ কেজি ও আমের ১৫ কেজি জিলাপি বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া ১৪ এপ্রিল তরমুজের ২০ কেজি ও আমের ২৫ কেজি, ১৫ এপ্রিল তরমুজের ২০ কেজি ও আমের ২৫ কেজি জিলাপি বিক্রি হয়েছে।

তরমুজ ও কাঁচা আমের দাম বেশি, তাই প্রতি কেজি জিলাপি সোবহান বিক্রি করছেন ২৫০ টাকা করে বলেও জানান তিনি। তবে ওই দোকানে সাধারণ জিলাপি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৫০ টাকা করে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে জিলাপি কিনতে আসেন কামরুনাহান নামে এক কলেজ ছাত্রী। তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে দেখে আমি কিনতে এসেছি। আসলে আমি টেস্ট করে দেখতে চাই কেমন লাগে। তরমুজের ফ্লেভারে আগে কখন জিলাপি খাইনি। তাই চলে আসলাম। তবে দাম একটু বেশি চাচ্ছে।’এই জিলাপি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বেশ আলোচনা হচ্ছে।

কার্তিক মণ্ডল নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এসব জিলাপি ফুড কালার আর কেমিক্যাল মিশিয়ে তৈরি করা হয়। সব ব্যবসার ধান্দা।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘বাজারে কবে লিচু আসবে, সে দিন আবার নতুন প্রতারণা শুরু হবে। আসলে এগুলোতে তেমন স্বাদ নেই। এগুলো কেনা মানে প্রতারণার ফাঁদে পা দেয়া।’

দোকান মালিক আবদুস সোবহান দাবি করেছেন, ‘কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করছি না, কোনো ফুড কালারও নেই। যদি কোনো ক্রেতা চায়, আমার কাছে দাঁড়িয়ে থেকে জিলাপি বানানোর প্রক্রিয়া দেখতে পারেন। তাদের সামনেই জিলাপি তৈরি করে দেয়া হবে।’

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম বলেন, ‘তরমুজ দিয়ে জিলাপি বনানো হচ্ছে এটা প্রথম শুনলাম। আগামী এক-দু’দিনের মধ্যে সেখানে গিয়ে পরীক্ষা করে দেখব।

‘তারা যদি আসলে তরমুজ দিয়ে জিলাপি বানায়, আর ক্রেতার কিনতে চায়, তাহলে আমাদের কিছু বলার নেই। তবে যদি ফুড কালার বা কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি করে তবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘পণ্যের দাম আমরা নির্ধারণ করতে পারি না। তবে জিলাপির কেজি মূল্য ২৫০ টাকা একটু বেশি হয়ে যায়।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে