ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ৬০ বিঘা বোরো ধানের ক্ষতি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২২; সময়: ১১:৩৩ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের উত্তর মাতৃগাও গ্রামে ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ৬০ বিঘা জমির বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। এতে গ্রামের অর্ধশতাধিক কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, মাহিম ব্রিকস নামে ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস ফসলের ক্ষতি করছে। তারা ভাটা বন্ধ ও ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন।

কৃষক সুজন ইসলাম বলেন, আমরা কৃষক মানুষ। পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস কৃষি। অনেক কষ্ট করে এই জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। এখন ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ফসল নষ্ট হয়ে গেল। পথে বসা ছাড়া এখন আর আমাদের কিছু করার নেই।

কৃষক জহিরুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগেও আমাদের জমির ধান ভালো ছিল। এখন ধীরে ধীরে সবগুলো পুড়ে যাচ্ছে।

পাশের মাহিম ইটভাটার গ্যাস ছাড়ার পর আজ আমার সব শেষ হয়ে গেল। অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে জমিটাতে আবাদ করেছি। এখন আর কিছু রইল না।

স্থানীয় মোমেনা আক্তার বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই জমিতে ধান রোপণ করেছি। সব ধানক্ষেত পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন কীভাবে পরিবার চালাব? কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছি না।

কৃষক ঘিনু আলী বলেন, সামনে আমার মেয়ের বিয়ে। আমি পেশায় একজন কৃষক। কৃষি ছাড়া আর কোনো আয়ের উৎস নেই। আমাদের কথা কেউ শুনছে না।

কৃষকের কষ্ট দেখার মতো কেউ নেই। কী হবে আমাদের? আমাদের সব ফসলের ক্ষেত ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাহাদুর রায় বলেন, বিষয়টি আমরা সরেজমিনে দেখেছি। ইটভাটার মালিকের সঙ্গে কথা হয়েছে। যদি প্রমাণিত হয় ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ফসলের ক্ষেত পুড়ে গেছে তাহলে কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।

মাহিম ব্রিকসের ম্যানেজার রাজু বলেন, কৃষকরা আমাদের কাছে এসেছিলেন। যদি কৃষি অফিস বা কৃষকরা প্রমাণ করতে পারেন আমাদের ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ফসলের ক্ষেত পুড়ে গেছে তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে