সিরাজগঞ্জে ভোট পুনর্গননা দাবিতে আদালতে মামলা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২২; সময়: ২:৩৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে গত ২৮ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট পুনর্গননার দাবিতে আদালতে মামলা দায়ের করেছে এক প্রার্থী।

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ২ নং রাজাপুর ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ডের নির্বাচনের দিন ভোট গণনা শেষে এই কেন্দ্রে ২৪৭৬ জন ভোটারের মধ্যে ১৯৪৩ ভোট প্রদান করেন ভোটাররা। এই ভোটে ফুটবল প্রতিক মুকুল হোসেন পান ৯৯৮ ভোট আর মোরগ প্রতিক সাইফুল ইসলাম পান ৯৩৬ ভোট।

রেজাল্ট ঘোষনা হওয়ার পূর্বেই মোরগ প্রতীকে সাইফুল ইসলাম ও তাঁর লোকজন পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফুটবল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী মুকুল হোসেনের কর্মী সমর্থকের উপর হামলা চালায়।

এসময় তারা সংখ্যালঘুদের বাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর করেন। হামলাকারীদের আঘাতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্য কয়েকজনকে সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় ভর্তি করা হয়। নির্বাচন কেন্দ্রে বিশৃংখলা দেখে পিজাইটিং অফিসার ফলাফল ঘোষনা না করেই সকল সরঞ্জামাদী নিয়ে দ্রুত চলে যান।

পরের দিন দুপুরে উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে মোরগ প্রতিক সাইফুল ইসলামকে ৯৭৩ ভোট ও ফুটবল প্রতিক মুকুল হোসেনকে ৯৬১ ভোট দেখিয়ে ১২ ভোটে মোরগ প্রতিককে বিজয়ী ঘোষনা করেন।

এ বিষয়ে ফুটবল প্রতিক প্রার্থী মুকুল হোসেন বলেন, আমাকে পরিকল্পিত ভাবে হারিয়ে দিয়েছে পিজাইটিং অফিসার ও রিটারনিং অফিসার। আমি সঙ্গে সঙ্গে মৌখিক ও লিখিত ভাবে অভিযোগ দিলেও তারা কোন কর্ণপাত না করলে আমি বাধ্য হয়ে ১১জানুয়ারী আদালতে হাজির হয়ে আমার ওয়ার্ডের ভোট পুনর্গনার জন্য জেলা নির্বাচন অফিসার, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এই ইউনিয়নের রিটারনিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা ইলিয়াস হাসান শেখ, পিজাইটিং অফিসার আব্দুর রহমান, ও সহকারী পিজাইটিং অফিসার সহ ২৫ জনকে বিবাদী করে সিরাজগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করি। আশা করি বিজ্ঞ আদালত আমার মামলাটি গুরুত্বের সাথে দেখে সঠিক বিচার করে আমার প্রাপ্ত ভোট গননা করে সঠিক ফলাফল ঘোষনা দেবে।

সিরাজগঞ্জ জজ কোটের আইনজীবি আবু বাশার মো: মাসুম রেজা বলেন, আমার মক্কেল মুকুল হোসেন বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছে যার মামলা নং ০২/২২ যা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারী সমর জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আদালতে আমার মক্কেল অবশ্যই সঠিক বিচার পাবে বলে আশাবাদী।

রিটারনিং অফিসার ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমরা সঠিক নিয়ম মেনেই ফলাফল ঘোষনা করছি। এখন কেউ যদি মামলা করে তাহলে তো কিছু করার নেই। সেটা আদালতে যথাযথ প্রমান দিতে হবে।

এব্যাপারে মোরগ প্রতিকের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, ভোট কেন্দ্রে পিজাইটিং অফিসার সঠিক ফলাফল ঘোষনা করেছেন।সেই ফলাফলে আমি বিজয়ী হয়েছি। আমার বিজয়ের পর ওরা পরাজিত হয়ে আমার উপর ও আমার লোকজনের উপর বারবার হামলা করেছে। আমি তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা করিনি বরং তারাই আমার বিরুদ্ধে মামলা হরেছে। আর তারা যে সকল নিরিহ লোক জনকে মারধর করেছে তারাই বাদী হয়ে মামলা করেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে