মান্দায় পাঁচ বছরেও বিচ্ছিন্ন হয়নি অবৈধ নলকূপের বিদ্যুৎ সংযোগ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২২; সময়: ৫:৫৫ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা : নওগাঁর মান্দায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ৫ বছর আগে ব্যক্তিমালিকানার একটি গভীর নলকূপের ছাড়পত্র বাতিল করেছে উপজেলা সেচ কমিটি। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন করা হয়নি বিদ্যুৎ সংযোগ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে সেচকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শফিকুল ইসলাম নামে একব্যক্তি। তিনি উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের গাংতা গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, শফিকুল ইসলামের স্থাপনকৃত গভীর নলকূপের আশপাশে অনেক আগে থেকেই একাধিক সেচযন্ত্র চালু রয়েছে। এরপরও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে স্থাপন নীতিমালার তোয়াক্কা না করে একই এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন করেন তিনি। ছাড়পত্র বাতিলের পরও গভীর নলকূপটি কীভাবে চলছে এনিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। কৃষকদের দাবি অবৈধভাবে স্থাপনকৃত নলকূপটি বন্ধ করা হলে এলাকায় সেচকাজে কোন বিঘ্ন সৃষ্টি হবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের গাংতা মৌজায় ২৫১ নম্বর দাগে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য উপজেলা সেচ কমিটিতে আবেদন করেন শফিকুল ইসলাম। ২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি উপজেলা সেচ কমিটির সভায় তাঁকে সেচযন্ত্র স্থাপনের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু আবেদন ও ছাড়পত্রের উল্লেখিত ২৫১ নম্বর দাগে সেচযন্ত্রটি স্থাপন না করে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে ১৭২ নম্বর দাগে সেটি স্থাপন করেন।

গাংতা গ্রামের শমসের আলী বলেন, বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর এলাকাবাসির অভিযোগে ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর উপজেলা সেচ কমিটির সভায় শফিকুলের ছাড়পত্রটি বাতিল করা হয়। অথচ ছাড়পত্র ছাড়াই গত ৫ বছর ধরে গভীর নলকূপের সাহায্যে অবৈধভাবে সেচকাজ চালিয়ে আসছেন তিনি।

একই গ্রামের কৃষক তমসের আলী বলেন, শফিকুল ইসলামের ২৫১ নম্বর দাগের অদুরে ২৫৫ নম্বর দাগে অনেক আগে থেকেই রুবেল হোসেন একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করে সেচকাজ করে আসছেন। এ অবস্থায় ছাড়পত্রের ২৫১ নম্বর দাগে জটিলতার আশঙ্কায় সুচতুর শফিকুল ইসলাম অনিয়নের মাধ্যমে ১৭২ নম্বর দাগে তাঁর গভীর নলকূপটি স্থাপন করেন। তিনি আরও বলেন, ১৭২ নম্বর দাগ থেকে মাত্র ৬০০ ফিট দুরে এলাকার শমসের আলীর আরও একটি অগভীর নলকূপ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা চলছে। ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বরের সভায় এটির ছাড়পত্র বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করার জন্য মান্দা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে পত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করেনি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরও বলেন, গতবছরের ৯ ফেব্রুয়ারি সেচ কমিটির সভায় শফিকুল ইসলামের গভীর নলকূপের সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করার জন্য গত ৩০ ডিসেম্বর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস কেন সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করছে না এটি আমার জানা নেই।

মান্দা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শফিউল আলম বলেন, আমি সদ্য এ অফিসে যোগদান করেছি। গত ৩০ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত বিএমডিএর একটি পত্র পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে খুব শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে