মান্দায় ৩৫ লাখ টাকার অ্যাম্বুলেন্স অকেজো

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২২; সময়: ৩:৩৯ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা : গ্রামাঞ্চলের জরুরী রোগী পরিবহন ও সেবার মান বাড়তে নওগাঁর মান্দা উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে চালু করা হয়েছিল অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্টের (এলজিএসপি) বরাদ্দকৃত অর্থে এসব অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করতে ব্যয় হয়েছিল ৩৫ লাখ টাকা। রোগী পরিবহনের পাশাপাশি এ বাহনটি দিয়ে প্রত্যেক রাতে সাইরেন বাজিয়ে পাড়া-মহল্লা ঘুরে ঘুরে পাহারা দেওয়ার কাজও করতেন গ্রামপুলিশেরা।

কিন্তু জরুরী সেবার সেই অ্যাম্বুলেন্সগুলো এখন পুরোটাই অকেজো। নষ্ট হয়ে গেছে এগুলোর ব্যাটারী। অকেজো টায়ার-টিউব ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ। এসবের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বাহনটি। এতে সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন প্রত্যন্ত জনপদের মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এলজিএসপির অর্থায়নে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে এসব অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা হয়। প্রত্যেকটি চার্জার অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করতে ব্যয় হয়েছিল আড়াই লাখ টাকা। ব্যাটারিচালিত এ অ্যাম্বুলেন্সের সাহয্যে গ্রামীণ জনপদের জরুরী সেবাপ্রার্থী রোগীদের পৌঁছে দেওয়া হতো হাসপাতালে। কিন্তু ব্যাটারি, টায়ার ও টিউবসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ায় অকেজো অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে অতি প্রয়োজনীয় এ বাহনটি।

সেবাপ্রার্থীরা বলছেন, মা ও শিশু স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণসহ সরকারের সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যাটারীচালিত অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করা হয়। এতে স্বস্তি ফিরে এসেছিল গ্রামীণ জনপদে। মোবাইল করলেই পৌঁছে যেত অ্যাম্বুলেন্সটি। সহজেই চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারতেন রোগীরা। সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসা নিতে পারায় প্রাণে বেঁচে গেছেন অনেকে।

কিন্তু সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাবে প্রয়োজনীয় এ বাহনটি খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। এতে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন গ্রামাঞ্চলের মানুষ। আর জলে যাচ্ছে সরকারের ৩৫ লাখ টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন পরিষদের এক সচিব বলেন, নওগাঁ ডিডিএলজি মহোদয়ের পরামর্শ ও তৎকালিন ইউএনও স্যারের পৃষ্ঠপোষকতায় এলজিএসপির বরাদ্দকৃত অর্থে গ্রামীণ জনপদের জরুরী রোগী বহনের জন্য চার্জার অ্যাম্বলেন্সটি তৈরি করা হয়। এটি চালুর পর অনেক প্রশংসা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু অল্পদিনেই এর ব্যটারি নষ্ট হয়ে যায়। একই সঙ্গে নষ্ট হয়ে গেছে টায়ার ও টিউব। ফলে অচল অবস্থায় পড়ে আছে অ্যাম্বুলেন্সগুলো। বন্ধ হয়ে গেছে গ্রামপুলিশের রাতের ডিউটি।

এ প্রসঙ্গে কুসুম্বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওফেল আলী মন্ডল বলেন, মাঝে-মধ্যেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। চালকও পাওয়া যায় না। গ্রামপুলিশ দিয়ে চালু রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। এতে পরিষদের কাজে বিঘ্ন ঘটে। এসবের কারণে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসটি বন্ধ হয়ে গেছে।

ভারশোঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন বলেন, অ্যাম্বুলেন্সগুলো চালু করতে নতুন ব্যাটারীসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ লাগবে। চারটি ব্যাটারী কিনতেই লাগবে ৫০ হাজার টাকা। এগুলো মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত প্রকল্পের অর্থ সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি। পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে এগুলো করতে হবে। এজন্য অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

এসব বিষয় নিয়ে উপজেলা সমন্বয় সভাতেও আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সুরাহা না হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু বাক্কার সিদ্দিক বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের চার্জার অ্যাম্বুলেন্সগুলো বন্ধ আছে এটি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে