নৌকার বিরোধিতাকারীদের শাস্তির দাবী পরাজিত প্রার্থী আনোয়ারা আহম্মেদের

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২২; সময়: ৭:২৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : নৌকা প্রতীকের বিরোধিতাকারী আওয়ামী লীগ নেতাদের দল থেকে বহিস্কারসহ তাদের বিচার দাবী করেছেন পাবনার জাতসাখিনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী আনোয়ারা আহম্মেদ। রোববার (০৯ জানুয়ারি) দুপুরে বেড়া উপজেলার কাশীনাথপুরে তার বাসনভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবী করেন।

লিখিত বক্তব্যে আনোয়ারা আহম্মেদ বলেন, গত ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি বেড়া উপজেলার জাতসাখিনী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। শুরু থেকেই বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও জাতসাখিনী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি রেজাউল হক বাবু এবং তার ভাই মুকুসহ তাদের দোসররা নৌকা প্রতীকের বিরোধীতা করেছেন। তারা অন্যদের দিয়ে নৌকা প্রার্থীর ভোট কেটে নৌকার নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেয় এই চক্রটি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সাংসদ, পৌর মেয়রসহ আওয়ামীলীগের তৃণমুল কর্মিরা ভোটে বিজয়ের পরিবেশ তৈরি করলেও আওয়ামীলীগের নামে যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করে, সেই তথাকথিত নেতা কামরুজ্জামান উজ্জ্বল, আব্দুর রশিদ, রেজাউল হক বাবু গংরা আমিসহ বেড়ার ৬টি ইউনিয়নে নৌকাকে পরাজিত করেছে। তারা বিএনপি জামায়াতের পক্ষে টাকা খেয়ে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি কাজ করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে আমি সামান্য ভোটে পরাজিত হই।

আনোয়ারা আহম্মেদ বলেন, আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে নৌকা প্রতীকের মান সম্মান ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। দিনরাত পরিশ্রম করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা মানুষের কাছে প্রচার করেছি। অথচ আওয়ামীলীগের নামধারী বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু এবং তার ভাই মুকু ও দোসররা এই ইউনিয়নে নৌকা ডুবিয়ে দেয়।

তিনি আওয়ামীলীগের ক্ষতি করে বিএনপি জামাতের প্রতিষ্ঠাকারী জাতসাখিনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি রেজাউল হক বাবু, তথাকথিত কেন্দ্রীয় নেতা নামধারী কামরুজ্জামান উজ্জলসহ আওয়ামী লীগের বিরোধীতাকারীদের দৃষ্টান্তমূলত শাস্তির দাবী জানান দলীয় প্রধানসহ নীতিনির্ধারকদের কাছে।

এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু বলেন, নির্বাচনের সময় আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ্য ছিলাম। যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সঠিক নয়। বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে নৌকার প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। আমার ধারণা একটি চক্র ষড়যন্ত্রমুলকভাবে আমাদের বিরুদ্ধে তাকে ব্যবহার করছে।

কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা কামরুজ্জামান উজ্জল বলেন, এসব অভিযোগ তার মনগড়া। কারণ নির্বাচনের সময় আমি এলাকাতেই ছিলাম না। ভোট কেমন হয়েছে, কিভাবে হয়েছে সাংবাদিকরাও জানেন। সুষ্ঠু ভোট হয়েছে, ভোটের মাধ্যমেই যারা জয়ী হবার তারাই নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে অন্য কাউকে দোষী করে লাভ নেই। আমিও এগুলো নিয়ে ভাবছি না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে