মান্দায় চাঁদাদাবির প্রতিবাদের শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২২; সময়: ৭:৩০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : নওগাঁর মান্দায় মিথ্যাচার ও চাঁদা দাবীর প্রতিবাদের সংবাদ সম্মেলন করেছেন রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রায়হান কবির। শনিবার (৮ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে উপজেলার কাঁঠালতলী মোড়ে এলাকার কয়েকজন ভুক্তভোগীদের নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি একজন শিক্ষক মানুষ। আমি দীর্ঘদিন যাবত সুনামের সঙ্গে নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার রামনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। গত ৪-০১-২০২২ইং তারিখ দৈনিক ভোরের কাগজ সকালের সময় পত্রিকায় আমাকে জড়িয়ে মান্দায় মৎসজীবী সেজে জলমহালে দরপত্র দাখিল” শীর্ষক একটি মিথ্যা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে রায়হান কবির নওগাঁর মান্দা উপজেলার রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। তিনি মৎস্যজীবী না হয়েও চেরাগপুর সমবায় সমিতি লিঃ এর উপদেষ্টা হিসেবে জলমহাল ইজারার পরপর দাখিল করেন। এ বিষয়ে চকসেবীরাম মৎসজীবী সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি ওহিদুল আলম আমার বিরুদ্ধে মান্দা উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার নুরুল্যাবাদ ইউপির বিল “শিশুগাড়ী” জলমহাল ৬ বছর মেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দরপত্র আহবান করেন। সেখানে শিক্ষক রায়হান কবির মৎসজীবী সেজে চেরাগপুর মৎসজীবী সমবায় লিঃ উপদেষ্টা হিসেবে নিজের ছবি নাম ঠিকানাসহ ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকার পেঅর্ডার দাখিল করেন। প্রকৃত সত্য হলো যে ওই দরপত্র এখন পর্যন্ত উন্মুক্ত হয়নি।

অভিযোগকারী ওহিদুল আলম আমার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে নানা মহলে মিথ্যাচার চালিয়ে আসছেন। তিনি আমার সুনাম ক্ষুন্ন করতেই এধরণের মিথ্যাচারে লিপ্ত রয়েছেন। আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি ওহিদুল আলম বেশ কিছুদিন ধরে আমার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিলেন। তাকে চাঁদা না দেয়ার কারণে তিনি নিজে এবং সহকর্মীদের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ও মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ, জানমালের ক্ষতি সাধনসহ চাকরিচ্যুত করার হুমকি প্রদান করছেন।

প্রমাণ স্বরুপ আমার কাছে এধরণের হুমকি ধামকি দেয়ার ফোন নম্বর এবং কল রেকর্ড সংরক্ষিত আছে। শুধুমার চাঁদা না দেয়ার কারণে ওহিদুল আলম এসমস্ত মানহানিকর হয়ারানী মূলক কর্মকান্ড করে আমাকে মানষিকভাবে বিব্রত ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছে। সে এলাকার একজন দাঙ্গাবাজ পরধনলোভী এবং সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। প্রাণ ভয়ে এলাকার অতিষ্ট লোকজন তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে নারাজ। তিনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে বিজ্ঞ আদালতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন আছে।

তিনি আরো বলেন, আমি রামনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক এবং চেরাগপুর মৎসজীবী সমিতি লিঃ এর সম্মানিত উপদেষ্টা। সমিতির লোকজন অশিক্ষিত মানুষ হওয়ায় তারা আমাকে তাদের কাগজপত্র দেকভালের সুবিধার্থে এবং সম্মান করে উপদেষ্টা হিসেবে রেখেছেন।

আমি আমার নিজ নামে কোনো দরপত্র জমা দেয়নি। অভিযোগকারী ওহিদুল নিজের সুবিধা ভোগে বাধাগ্রস্ত এবং চাঁদা না পাওয়ায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। বর্তমানে আমি তার কারণে প্রাণ ভয়ে ভীত। এসময় তার সঙ্গে ভুক্তভুগী মৃত এরশাদ আলীর ছেলে আব্দুর জলিল ও মৃত কছিমদ্দিনসহ এলাকাবাসিরা উপস্থিত ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে