বদলগাছীতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় হামলা ও ভাঙ্গচুরের অভিযোগ

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৭, ২০২১; সময়: ৮:২৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, বদলগাছী : নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিলাশবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এমরান হোসেন খাঁন ওরফে রতনের একটি নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও তাঁর কর্মীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টায় বিলাশবাড়ি ইউপির দুধকুড়ি নামক গ্রামে। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী এস.এম.রাফিউল হাসান খুসব আমিরের নেতৃত্ব নির্বাচনী কার্যালয় ও কর্মীকে মারধর করা হয়েছে বলে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এমরান হোসেন খাঁনের অভিযোগ। তবে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় দুধকুড়ি গ্রামে একটি অটোরিকশায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী রাফিউল হাসান খুসব ওরফে আমিরের প্রচারণা চলছিল। ওই সময় বিদ্রোহী প্রার্থী এমরান হোসেন খাঁনের সমর্থনে তাঁর কর্মী-সমর্থেকরা মিছিল করছিলেন। মিছিলের সময় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত অটোরিকশায় সামান্যে ধাক্কা লাগে।

প্রচারণার কাজে থাকা লোকজন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীকে ঘটনাটি জানান। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী রাত সাড়ে নয়টায় ৫-৬ টি মোটরসাইকেল নিয়ে এসে দুধকুড়ি গ্রামে বিদ্রোহীর প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করে। নির্বাচনী কার্যালয়ে থাকা স্বাধীন নামে এক কর্মীকে মারধর করে। ফরিদ হোসেন নামে একব্যক্তি স্বাধীনকে তাঁদের হাত থেকে রক্ষা করেন। পুলিশ খবর পেয়ে রাতেই এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

দুধকুড়ি গ্রামের ফয়সাল হোসেন বলেন, আমি এমরান হোসেন খাঁন রতনের নির্বাচনী কার্যালয় থেকে দূরে বসে ছিলাম। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ৫-৬ টি মোটরসাইকেল নিয়ে এসে বিদ্রোহী প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে দাঁড়ায়। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী তাঁর নির্বাচনে প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত অটোরিকশাকে কে ধাক্কা দিয়েছে সেটি জানতে চান।

একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী নিজেই তাঁর লোকজন নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করে। সেখানে থাকা স্বাধীন নামের একজন ব্যক্তি বাঁধা দিলে তাকে মারধর করা হয়।

স্বাধীন বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আমাকে মারপিট করেছে। তিনি চাকু বের করে আমাকে জবাই করার ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। এতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।

ফরিদ হোসেন বলেন, প্রার্থী নিজে এসে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও কর্মীকে মারধরের এ ঘটনাটি নজিরবিহীন। এঘটনায় নির্বাচন সুষ্ঠ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আমাদের গ্রামে অন্য প্রার্থীদের মাত্র একটি নির্বাচনী কার্যালয় রয়েছে। সেখানে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর চারটি নির্বাচনী কার্যালয়।

বিদ্রোহী প্রার্থী এমরান হোসেন খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আমার কর্মী-সমর্থেকদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী নিজেই দুধকুড়ি গ্রামে আমার নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও কর্মীকে মারধর করেছেন। এঘটনায় আমার কর্মী-সমর্থকেরা আতঙ্কে রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী রাফিউল হাসান খুসব ওরফে আমির বলেন, দুধকুড়ি গ্রামে বিদ্রোহী প্রার্থী এমরান হোসেন খাঁনের লোকজন আমার নির্বাচনী প্রচারণার কাজে বাঁধা দিয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীর কোনো জনসমর্থন নেই জেনে নিজেই তাঁর লোকজন দিয়ে নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করে আমার ওপর দায় চাপাবার চেষ্টা করছেন। ওই দুধকুড়ি গ্রামে তিন হাজারের অধিক ভোটার রয়েছে। দুই হাজারেও বেশি ভোট আমার বাক্সে পড়বে। সেখানে গন্ডগোল করে আমার কি লাভ?।

বিলাশবাড়ি ও বালুভরা ইউপির রিটানিং অফিসার উপজেলা সমবায় অফিসার লুৎফর রহমান বলেন, আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী রাফিউল হাসান খুসব ওরফে আমির তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বিভিন্ন ধরণের হুমকী প্রদান করছে বলে মঙ্গলবার বিকেলে বিলাশবাড়ি ইউপির চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী সাইদুর রহমান কেটু, এমরান হোসেন খাঁন ও সাজ্জাদ হোসেন যৌথ্যভাবে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমি অভিযোগটি বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফরওয়ার্ড করেছি। কিন্তু রাতে নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করেছে তার কোন অভিযোগ পাইনি।

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার রাতে দুধকুড়ি গ্রামে দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে।

উল্লেখ তৃতীয় ধাপে আগামী ২৮ নভেম্বর বদলগাছী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিলাশবাড়ি ইউনিয়নে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা রাফিউল হাসান আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এমরান হোসেন খাঁন স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। ওই ইউনিয়নে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে