মহাদেবপুরে রাস্তা নির্মানে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩০, ২০২১; সময়: ৬:২৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, মহাদেবপুর : নওগাঁর মহাদেবপুরে সড়ক জনপদ বিভাগের মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। গত বর্ষা মওসুমে নওগাঁ-মহাদেবপুর-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের স্থানে স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। সেগুলোতে পানি জমে কাদাপানিতে সয়লাব হয়ে থাকে।

উপজেলা সদরের আখেড়া, বাসস্ট্যান্ড, ঘোষপাড়া মোড়, হাসপাতাল মোড়, লিচুতলা থেকে ব্র্যাকমোড় পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত খারাপ। এই সড়কে প্রায়ই যানবাহন উল্টে দূর্ঘটনা ঘটতো। সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই সড়কের ভাঙ্গা অংশে মাটি ফেলে উঁচু করে ইট দিয়ে হেরিং বোন বন্ড করার কাজ শুরু করে। কিন্তু এই কাজে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা সদরের বরেন্দ্র মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায় হেরিং বোন বন্ড করার জন্য যে ইট ব্যবহার করা হচ্ছে তা নিম্নমানের। নিচের সারির এক ইটের যে সোলিং দেয়া হচ্ছে তা গায়ে গায়ে ঘেঁষে না দিয়ে একটি থেকে অন্যটি কয়েক ইঞ্চি পর পর সাজানো হয়েছে। ইট সাজানোর কাজ করছিলেন অসংখ্য লেবার। তাদের মধ্যে নিজেকে সরদার বলে পরিচয় দিলেন নওগাঁ শহরের কোমাইগাড়ী এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে চঞ্চল মন্ডল।

তিনি জানালেন, ভাঁটায় ১নং ইটের যোগান না থাকায় তারা এই ইট ব্যবহার করছেন। অপর মিস্ত্রি নওগাঁ সদর উপজেলার বাচারীগ্রাম গ্রামের বছির উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন জানালেন, সোলিংয়ে বালু দিয়ে জয়েন্টের জন্য প্রতিটি ইটের মাঝে ২ ইঞ্চি করে ফাঁকা রাখতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা ভূল করে ৩ ইঞ্চি করে ফাঁকা রেখেছেন। তিনি জানান, ঠিকাদার যে ইট সরবরাহ করেছে, তাই দিয়ে তারা কাজ করছেন। তবে যারা দেখবেন তারাই বলবেন যে এটা ১নং ইট নয়।

মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদার মাসুদ জানান, তারা ইট বিছানোতে কোনো ফাঁকা রাখেননি এবং নিম্নমানের ইট ব্যবহারের প্রশ্নই উঠে না। এগুলো সব ১নং ইট। সওজ পত্নীতলা উপ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুর আহমেদ জানান, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি আমার জানা নেই, আপনি জানালেন বিষয়টি আমি দেখছি। নওগাঁ জেলা

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। স্থানীয়রা জানান, নিম্নমানের কাজের অভিযোগে শুক্রবার বিকেলে তারা কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু ঠিকাদারের লোকেরা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার অব্যাহত রেখে শনিবার সকাল থেকে আবার কাজ শুরু করে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে