পাবনায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে স্কুল শিক্ষিকা গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১; সময়: ৭:৪০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : পাবনায় হালাল উপার্জনের প্রলোভন দিয়ে ১০ কোটি টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে এক স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। প্রতারক স্কুল শিক্ষিকার নাম মোছাঃ সীমা আক্তার। তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরন করেন। সে পাবনা পুলিশ লাইনস স্কুল এন্ড কলেজের প্রাথমিক শাখার সহকারী শিক্ষিকা ছিল। গ্রেফতারের পর তাকে স্কুল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

পাবনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমিনুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে শহরের আটুয়া হাউজ পাড়ায় পাবনা পুলিশ লাইনস স্কুল এন্ড কলেজের প্রাথমিক শাখার সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ সীমা আক্তারের বাড়ি অবরোধ করে বিক্ষোভের খবর পায়। পরে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে ওই নারী শিক্ষিকাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

তিনি হালাল উপার্জনের প্রলোভন দিয়ে সাধারন মানুষদের কাছে থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাত করেছেন বলে প্রতারণার স্বীকার হওয়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।

রাতেই ভুক্তভোগীদের পক্ষে মোছা: মাবেলা পারভিন বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় বাদি মাবেলা পারভিন ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা প্রতারনার স্বীকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন।

বুধবার দুপুরে ঐ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মোছাঃ সীমা আক্তারকে আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরন করেছে। সে আটুয়া হাউজ পাড়া মহল্লার মৃত হানিফুল ইসলামের স্ত্রী।

প্রতারনার স্বাীকার ভুক্তভোগীদের মধ্যে জিয়াউল করিম সুমন জানান, শিক্ষিকা মোছাঃ সীমা আক্তার সাধারন মানুষদের ইসলামী শরিয়া মোতাবেক গরুর খামারসহ নানা ধরনের হালাল উপর্জনের কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি শুধু সাধারন মানুষদেরই নয় নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক ও পুলিশ সদস্যদেরও বোকা বানানিয়েছেন।

প্রতারক নারী শিক্ষিকা অনেকের কাছ থেকে চেক ও স্টেম্পের মাধ্যমেও অর্থ নিয়েছেন। মানুষ তার কথায় বিশ্বাস করে লাভের আশায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ করে। লাভের অংক বেশি হওয়ায় লোভে পরে অনেকেই সেখানে অর্থ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়।

প্রথম পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ঠ করতে তাদেরকে লাভের অর্থ প্রদান করতেন তিনি। কিন্তু পরবর্তীতে টাকার অংক বৃদ্ধি পেলে তিনি সমস্ত টাকা আত্মসাত করে গাঢাকা দেন।

মঙ্গলবার মাসিক লাভের অর্থ নিতে আসে বেশ কয়েকজন। এ সময় ওই নারীকে না পেয়ে বুঝতে পারে তারা চরম প্রতারনার স্বীকার হয়েছেন। তখন তার সীমা আক্তারের বাড়ি অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে ওই নারী শিক্ষিকাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে, ওই প্রতারকের কাছে অর্থদিয়ে অনেকেই এখন সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন। ওই প্রতারক নারী ব্যবসায়ীর বৈধ কোন কাগজ পত্র পাওয়া যায়নি। তিনি এক জনের কাছে থেকে অর্থ নিয়ে আরেক জনকে দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। প্রতারনার স্বীকার সাধারন মানুষ তাদের অর্থ ফিরে পাবার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।

এব্যাপারে নারী প্রতারক মোছা: সীমা আক্তার বলেন, আমার কোন বৈধ ব্যবসা নাই। এক জনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আরেকজনকে দিয়েছি। যারা টাকা দিয়েছে তাদেরকে সুদে অনেক টাকা লাভ দিয়েছি।

আমি কারো টাকা আত্মসাত করি নাই। মানুষ না জেনে না বুঝে আমাকে কেন টাকা দিয়েছে। তাদেরকে প্রশ্ন করুন। সম্প্রতি যারা আমাকে টাকা দিয়েছে তাদের টাকার একটি হিসাব করেছি। সেখানে প্রায় তিন কোটি টাকার মত হবে।

সেই সকল টাকা আমি দিয়ে দিবো। আর যারা সুদে লাভের টাকা নিয়েছে তাদেরটা দিবোনা। আর আমাকে কেন স্কুল থেকে বহিস্কার করেছে সেটি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানে। আমি ব্যক্তিগত কাজে বাহিরে ছিলাম। জেলা পুলিশ আমাকে আসতে বলেছে, আমি এসেছি।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার বলেন, এবিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। এই ধরনরে অভিযোগের কারনে তাকে স্কুল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। প্রতারণার বিষয়ে মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরন করেছে।

  • 59
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে