গুরুদাসপুরে হারিয়ে যাচ্ছে শিল-পাটা ধার

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১; সময়: ৭:৫২ pm |

এস এম ইসাহক আলী রাজু, গুরুদাসপুর : নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় এক সময় গ্রামের পাড়া-মহল্লায় বাড়ির সামনে দিয়ে উচ্চস্বরে বলতে শুনা যেতে। ‘লাগবে…শিল-পাটা ধার, তালা-চাবি সারা’ এখন আর তেমন হাঁক-ডাক শোনা যায়না। যন্ত্র আর সমাজ-সভ্যাতা পরিবর্তনের হাওয়ায় হারাতে বসেতে শিল-পাটা ও তালা-চাবি মেরামতের এ পেশা।

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গুরুদাসপুর পৌর সদরের আনন্দ নগর মহল্লায় শিল-পাটা খোদাই কাজে ব্যস্ত আব্দুর রাজ্জাক (৫৫)। কথা হয় আব্দুর রাজ্জাক সাথে। আব্দুর রাজ্জাক জানান,তাঁর স্থায়ী বাড়ী পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার সমাজ ইউনিয়নে সমাজ গ্রামে। আগে পৌত্রিক পেশা কৃষি কাজ করতেন তিনি। স্ত্রী ২ ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সংসার তাঁর। তবে তারা বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছেন।

আব্দুর রাজ্জাক আরো বলেন, গ্রামের অন্যদের দেখে এ পেশায় আগ্রহী হয়েছেন। প্রান্তিক পর্যায়ের দিন এনে দিন খাওয়া এই মানুষটি। এখন গ্রামের প্রায় প্রতিটি হাট বাজারে মশলা গুড়ো মিল গড়ে উঠেছে। মধ্যম আয়ের প্রতিটি পরিবারেই রয়েছে ব্লেন্ডার মেশিন। একারনে আগের মতো আয়-রোজগার হয়না। ছোট বড় মানভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় শিল পাটা খোদাই করেন তিনি। প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫টি মতো খোদাই কাজ করে তার আয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা রোজগার। রোজগার কম বলে প্রতিদিন ঘরে ফিরতে পারেন না রাজ্জাক।

যে এলাকায় কাজের সন্ধানে প্রবেশ করেন সপ্তাহ খানেক কোথাও অবস্থান করে ফেরেন বাড়িতে। খাবার, গাড়িভাড়াসহ দৈনিক রাজ্জাকের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। রোজগার কম বলে খুড়িয়েই চলছে তার সংসার। তিনি বলেন,গ্রামের প্রতিটি ঘরে এক সময় শিল-পাটা থাকলেও এখন তেমন একটা চোখে পরেনা। এ কারনে রোজগারও কমেছে রাজ্জাকের। বাধ্য হয়ে এ পেশার পাশাপাশি তালা-চাবি মেরামতের কাজও করেন তিনি। জিবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েই বিলুপ্ত প্রায় দু’পেশাকে এক করেছেন তিনি।

গুরুদাসপুর রোজি মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মাজেম আলী মলিন জানান, শিল পাটা ধার,তালা চাবি মেরামত পেশার এক সময় কদর থাকলেও এখন এ পেশা বিলুপ্তির পথে। মুলত যান্ত্রিক সভ্যতার কাছে এ পেশা টিকতে পারছেনা। তবে বিলুপ্ত প্রায় এ পেশা টিকিয়ে রাখতে পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।

  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে