সিরাজগঞ্জে মৃতের স্বাক্ষর নকল করে প্রকল্পের অর্থ হাতানোর অভিযোগ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১; সময়: ৩:৫৪ pm |
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি গাজী নওশাদ আলী প্রয়াত হয়েছেন দু বছর আগে। অথচ স্কুলের উন্নয়ন কাজে প্রকল্পে তিনি স্বাক্ষর করছেন। তার স্বাক্ষর জাল করে স্লিপসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন পুর্বক কাজ না করেই তা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক মো মাহমুদ রিয়াদ হাসান মামুনের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধ নওশাদ আলী ২০১৯ সালের প্রথম দিকেই মারা যান। এরপর আর কমিটি পুনঃ গঠন করেননি প্রধান শিক্ষক মামুন।
সুকৌশলে আর নানা অজুহাতে কমিটি গঠন না করে ৩ বছরের স্লিপসহ বিভিন্ন স্কুল উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার কাজ না করেই হাতিয়ে নিয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। পরে এলাকাবাসীর রোষানলে পড়ে ২০২১ সালের মাঝামাঝিতে কমিটি গঠন করতে বাধ্য হন তিনি।
শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা যায়, ভুড়ভুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে স্লিপের ৭০ হাজার, প্রাক প্রাথমিক ৫ হাজার ও জরুরি মেরামতের জন্য ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে স্লিপে ৭০ হাজার, দূর্যোগে ৫ হাজার, প্রাক প্রাথমিক ১০ হাজার, রুটিন মেনটেইন ৪০ হাজার ও মেরামত ২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয় এবং ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে স্লিপে ৭০ হাজার ও রুটিন মেইনটেইন ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। এসব প্রকল্পের অর্থ মৃত সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে উত্তোলন করা হয়েছে। সেই সাথে নামে মাত্র কাজ করে পুরো টাকাই প্রধান শিক্ষক আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ করেন অভিভাবক আশরাফ আলী সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকরা। শতভাগ উপবৃত্তি প্রাপ্ত স্কলটির শিক্ষার্থীদের অধিক দেখিয়ে রিটার্ন ফরমে উল্লেখ করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
প্রধান শিক্ষক মাহমুদ রিয়াদ হাসান মামুন স্বাক্ষর জালের বিষয়ে বলেন, আমার কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেই সব করা হয়েছে। কোন অনিয়ম ও অর্থ নয়ছয় করা হয়নি। ৩ বছরের বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে কি কি কাজ করেছেন আমাদের একটু দেখান, এমন প্রশ্নে এড়িয়ে যান এবং প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজই তিনি দেখাতে পারেননি।
নব গঠিত কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, বরাদ্দকৃত অর্থ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আপেল মাহমুদ বলেন, ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কিছু অনিয়মের অভিযোগ শুনেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে