কচুয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পারিবারিক পুষ্টি বাগান

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১; সময়: ৩:০৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, কচুয়া : চাঁদপুরের কচুয়ায় দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পারিবারিক পুষ্টি বাগান। এলাকার সবজির চাহিদা পূরণে পারিবারিক পুষ্টি বাগান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উপজেলার পুকুরপাড়, বসতবাড়ির আঙিনাসহ পতিত জমিতে পুষ্টি বাগান স্থাপন করে একদিকে যেমন এলাকার পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকরা আর্থিকভাবে এর সুফল পাচ্ছে। প্রতি বছর ভারী বৃষ্টি আর দফায় দফায় বন্যার কারনে নষ্ট হয়ে যায় কৃষকের সবজি ক্ষেত।

দেশকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ন ধরে রাখতে বন্যা সহ নানা আপদকালীন সময়ে ও দেশের সবজি উৎপাদনে যেন কোনো প্রভাব না পড়ে সে লক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশায় দেশের প্রতিটি বসতবাড়ি আঙ্গিনা সহ প্রতি ইঞ্চি কৃষি জমি সবোর্চ্চ ব্যবহারের নিশ্চিতকরন অংশ হিসেবে কচুয়ায় দিনদিন এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিষমুক্ত পারিবারিক পুষ্টি বাগান।

কৃষকের চাহিদা মেটানো পাশাপাশি অতিরিক্ত সবজি বাজারজাত করে সংসারে বাড়তি অর্থের যোগান হওয়ায় আলোর মুখ দেখছেন উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ২২টি প্রদর্শনীর কৃষক পরিবার।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে অনাবাদি পতিত জমি বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় ২২টি প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিজন প্রদর্শনী কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ১০ কেজি ইউরিয়া, পাঁচ কেজি টিএসপি, পাঁচ কেজি এমওপি, ২০ কেজি জৈবসার, আড়াই কেজি বেড়ার নেট, একটি পানির ঝাঝরি এবং দুটি বীজপাত্রসহ ১২ ধরনের সবজি বীজ সরবরাহ করেছে কৃষি বিভাগ।

২২টি ব্লকের কৃষককে দেওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ। এসব বাগানে উৎপাদিত নানা রকমের বিষমুক্ত সবজি কৃষকরা নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। পরবর্তীতে ১২টি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের বাড়িতে পর্যায়ক্রমে পতিত জমি,বাড়ির আঙ্গিনায়,অনাবাদী জমিতে পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপনে উদ্যোগে নেয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী প্রতি ইঞ্চি জমি যেন সঠিক ভাবে ব্যবহার করা হয়। সেই নির্দেশনা মোতাবেক কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর অনাবাদী কৃষি জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পুষ্টিবাগান স্থাপন প্রকল্প গ্রহন করা হয়। পুষ্টিবাগানের মাধ্যমে পারিবারিক বিভিন্ন সবজি চাহিদা আহরন করছে পাশাপাশি সবজি চাহিদা পূরন করছে কৃষকরা। আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে ১০০টি করে মোট ১২০০টি পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন করা হবে।

  • 46
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে