মেহেরপুরে বিনা মূল্যে সাইকেল পেল ৭২ শিক্ষার্থী

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১; সময়: ১২:০৭ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : দিনমজুর ফজলুর রহমানের মেয়ে মৌমিতা রাইপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। প্রতিদিন স্কুলে যেতে তার খরচ হয় ৩০ টাকা। দিনমজুর বাবার পক্ষে প্রতিদিন যাতায়াত খরচ দেওয়া কষ্টকর হয়ে ওঠে। এজন্য মাঝে-মধ্যে তাকে হেঁটে তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হতো। বিনা মূল্যে বাইসাইকেল পেয়ে আনন্দে চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ে মৌমিতার।

মৌমিতা জানায়, বাবার ঘাম ঝরানো টাকায় গাড়িতে চড়ে স্কুলে যেতে আমার খুবই খারাপ লাগত। তাই কষ্ট হলেও বেশির ভাগ সময় হাঁটতাম। বাইসাইকেল পেয়ে খুবই আনন্দ লাগছে। এ অনুভুতি বোঝাবার নয়। আমি লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারলে আমিও অন্যকে সহযোগিতা করব। একটি বাইসাইকেল বদলে দিতে পারে আমার শিক্ষা জীবন।

২০২০-২০২১ অর্থবছরের এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের আওতায় ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭২ জন ছাত্রীর মাঝে বাইসাইকেল প্রদান করেন ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন সেপু। রোববার বিকেলে রাইপুর ইউপি কার্যালয়ে বাইসাইকেল বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী খানম।

গোপালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শিরিন শিলার বাবা মকলেসুর রহমান বলেন, আমার তিন মেয়ে। সবাই পড়ালেখা করে। সংসার চালিয়ে তাদের পড়ালেখার খরচ বহন করা কঠিন। চেয়ারম্যান সাহেব আমার মেয়েকে একটি বাইসাইকেল উপহার দিয়েছেন। এতে আমি খুশি।

রাইপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, বাইসাইকেল বিতরণের মাধ্যমে নারী শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও ত্বরান্বিত করা হলো। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে স্কুলে আসত।

ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন ছেপু বলেন, অনেক গরিব শিক্ষার্থী মেধাবি হওয়া সত্ত্বেও অর্থের অভাবে স্কুলে যেতে অনীহা দেখায়। দিনমজুর বাবার পক্ষে প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াতের ভাড়া দেওয়া কষ্টকর। বাইসাইকেল থাকলে গরিব পরিবারকে স্কুলে যাওয়ার ভাড়া নিয়ে ভাবতে হবে না। বাইসাইকেল যেমন পরিবেশ বান্ধব তেমনি অর্থ সাশ্রয়ী যানবাহন।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী খানম বলেন, শিক্ষার প্রসারের ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ নারী শিক্ষায় প্রসার ঘটাবে। ইউপি চেয়ারম্যানের এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।

  • 31
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে