শাহজাদপুরে বাবা-মায়ের কবরের পাশেই এমপি স্বপনের দাফন

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২১; সময়: ৭:৩৬ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : শ্রদ্ধা ভালবাসায় সর্বস্তরের মানুষকে শোকে স্তব্দ করে শেষ বিদায় জানালো সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের (শাহজাদপুর) জাতীয় সংসদ সদস্য সাবেক শিল্প উপমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন (৬৭) কে। মরহুমের জানাযা শেষে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রিয় জন্মভূমি শাহজাদপুরে।

ঢাকার পর শুক্রবার বাদ জুম্মা শাহজাদপুর হাই স্কুল মাঠে জনাকীর্ণ দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয় তার। সেখানে মোবাইল ফোনে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, তখন উপস্থিত থেকে শোক প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা, সাবেক মন্ত্রী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, সাবেক এমপি চয়ন ইসলাম, জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মদ, পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কে এম হোসেন আলী হাসান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছামাদ তালুকদার, উপজেলা চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান শাহজাহান, সাবেক পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরু, প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, এমপি স্বপন ছিলেন শুধু একটি দলের নেতা নয়।

তিনি তার ভালবাসা ও উন্নয়ন অগ্রগতি দিয়ে সবার মনিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন। গড়েছেন তার এলাকাকে আওয়ামীলীগের ঘাঁটি হিসেবে। তার মৃত্যু জনিত অভাব কখনো পুরন হবার নয়। এমপি স্বপনের আদর্শ লালন করলে তাকে স্মরণ করা হবে। চিরকালের জন্য বিদায় দিতে তার জানাযায় অংশ নিতে জেলার হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। জানাযা শেষে শাহজাদপুর চুনিয়াখালি পাড়া শাহ মখদুম কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে ঢাকা থেকে কফিনে মোড়ানো নিথর দেহ শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার যোগে প্রথমে বেড়া খালেকুজ্জামান স্টেডিয়ামে ল্যান্ড করেন এবং সেখান থেকে ফ্রিজিং এম্বুলেন্সে করে শাহজাদপুরের দ্বারিয়াপুর বাসায় আনা হয়। শেষ বারের মতো তাঁকে দেখতে সেখানে ভীড় করেন হাজার হাজার মানুষ। অভিভাবক হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং স্বজনরা স্তব্ধ নির্বাক হয়ে দেখতে থাকেন প্রিয় নেতাকে। সেখানে চোখের জলে সিক্ত হন শাহজাদপুরের আপামর জনতা। এমন ভাবে তারা অভিভাবক হারা হবেন মেনে নিতে পারেননি কেউই।

উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ঢাকার একটি হাসপাতালে বেশ কিছুদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তুরস্ক নেওয়া হয়। ইস্তাম্বুল মেমোরিয়াল হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাতে ভোর ০৩.২০ মিনিটে মারা যান তিনি। চরম দুঃসংবাদটি পাওয়ার পর থেকেই সকলের প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন অভিভাবককে এক নজর দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে প্রতীক্ষা করছিলেন শাহজাদপুরের মানুষ। হাসপাতালের সকল প্রক্রিয়া শেষে বিমানে করে শুক্রবার ভোরে ঢাকায় আনা হয় তার লাশ। সেখানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় স্পিকার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানীতে প্রথম জানাযা অননুষ্ঠিত হয়। এরপর ঢাকা থেকে বিমান বাহিনির হেলিকপ্টার যোগে বেড়া হয়ে স্বজনদের দেখানোর জন্য শাহজাদপুরের দ্বারিয়াপুরের বাসায় রাখা হয়।

বাদ জুম্মা শাহজাদপুর হাই স্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাযা শেষে শাহজাদপুর চুনিয়াখালিপাড়া শাহ মখদুম কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয় এমপি স্বপনকে।

তিনি ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৮ সালে আওয়ামীলীগে যোগদান করে শিল্প উপ-মন্ত্রী হন। এর আগে তিনি ১৯৮৬ সালে তৎকালিন শাহজাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ১৯৯২ সালে শাহজাদপুর পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৯ সালে শাহজাদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান,২০১৪ ও ২০১৬ সালে পরপর দুইবার আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন।

শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের আগ পর্যন্ত তিনি সিরাজগঞ্জ-৬(শাহজাদপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন।

সাংসদ জননেতা হাসিবুর রহমান স্বপন এর মৃত্যুতে শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও জনসাধারণের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • 62
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে