যৌতুকের জন্য গৃহবধূ কে হত্যা, পাষন্ড স্বামী গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২১; সময়: ৭:০৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় যৌতুকের নৃশংস বলির শিকার হয়েছে গৃহবধূ বানেছা বেগম (২১)। গেল কয়েকদিন আগে যৌতুকের জন্য স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বুধবার সকালে সাড়ে ১০ টায় আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় গৃহবধূর যৌতুক লোভী পাষন্ড স্বামীকে বুধবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকা থেকে আটক করেছে থানা পুলিশ। এদিকে বুধবার বিকেলে ওই গৃহবধূর যৌতুক লোভী পাষন্ড স্বামী শাহিন আলমকে প্রধান আসামী করে ৩ জনের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ মামলার প্রধান আসামী শাহিন আলমকে তার নিজ বাসা থেকে আটক করে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সৈয়দ আবু তালেব।

ঘটনাটি ঘটেছে আটোয়ারী উপজেলার রাধাঁনগড় ইউনিয়নের লক্ষীদাসী আশ্রয়ন প্রকল্পে। শাহীন-বানেছা দম্পতি ওই আশ্রয়নের বাসিন্দা। গত কয়েকবছর ধরে সেখানে বাস করছেন তারা।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের মোলানী গ্রামের ইয়াসিন আলীর সাথে রাধাঁনগড় ইউনিয়নের ডুংডুংগী গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে শাহিন আলমের বিয়ে হয়। বিয়েতে বর পক্ষের চাহিদা মোতাবেক ১ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা যৌতুক ধার্য করে কনের বাবা ইয়াসিন আলী। পরে যৌতুকের ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা বিয়ের আগেই বর পক্ষকে দিয়ে দেন তিনি ।

বিয়ের ৪ বছর পরে তাদের কোল জুড়ে আসে এক ছেলে সন্তান। যৌতুতের বাকী ১৮ হাজার টাকার জন্য বিয়ের পর থেকেই বানেছাকে শারিরিক ভাবে নির্যাতন শুরু করে শাহিন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মাতব্বরদের নিয়ে শালিস-বিচার করলেও বন্ধ হয়নি নির্যাতন। পরবর্তীতে যৌতুকের টাকার জন্য নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেন যৌতুক লোভী স্বামী শাহিন। পরে চলতি বছরের ২৫ শে আগষ্ট দুপুরে বাসায় রান্না করার সময় শাহীনের মামা জাহানুর (৪৫) ও নানা সোলেমানের প্ররোচোনায় শাহীন যৌতুকের জন্য বানেছাকে বেধড়ক মারপিট করে।

পরে বিষয়টি বানেছা তার বড় বোন খায়রুন বেগম কে খুলে বললে তিনি বাবা ইয়াসিন আলীকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। পরে এ নিয়ে বিস্তারিত জানার জন্য গৃহবধূর বাবা ইয়াসিন আলী জামাতা শাহীন আলমকে তার বাসায় ডেকে পাঠালেও তিনি আসেননি। পরে বুধবার (০১ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে শাহীন তার শ্যালক বদরুল ইসলামকে বানেছার শারিরীক অবস্থা ভাল নয় বলে জানায়। পরে তাকে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সকাল ১০.১০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বানেছার বাবা ইয়াসিন আলী জানান, যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে শাহীন প্রায়ই নির্যাতন করতো। তার নির্যাতনের কারণে আমার মেয়ে আজ পৃথিবী থেকে চলে গেছে। সেলিম নামে এক বছরের একটি ছেলে সন্তান আছে তাদের। এই ছেলেটির কি হবে এখন। আমি তো আমার মেয়েকে আর ফিরে পাবোনা। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারী সহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করছি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সৈয়দ আবু তালেব জানান, আমরা ওই গৃহবধূর মরদেহের সুরতহাল করেছি। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে বিস্তারিত বলা যাবে।

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো ইজার উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামীকে আটক করা হয়েছে। বাকী আসামীদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে