নিয়ামতপুরে আড়াই বছরে ৭ মামলায় অসহায় পরিবার

প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২১; সময়: ৫:০১ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিয়ামতপুর : নওগাঁর নিয়ামতপুরে মামলাবাজ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তার বংশধররা প্রতিপক্ষ একটি দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা, হত্যার হুমকি ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে উচ্ছেদের পায়তারা করছে এমন অভিযোগ উঠেছে।

আড়াই বছরে ওই পরিবারের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা দায়ের করেছেন তারা। শুধু তাই নয় ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে মারপিট, আবাদি জমিতে পানি না দেওয়া, নলকূপের পানি ব্যবহার করতে না দেওয়াও অভিযোগ উঠেছে। নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর হঠাৎপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই গ্রামের রফিকুল ইসলাম এ প্রতিবেদকের কাছে এই অভিযোগ করেছেন।

রফিকুল ইসলাম জানান, দেশ স্বাধীনের পর হতে আমার বাবা এই খাস জায়গায় বসবাস করে আসছে। ১৯৭৬ সালে খাস সম্পত্তি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে নেয় আমার বাবা। আমার বাড়ীর পূর্ব ও পশ্চিম পার্শ্বে দুটি খাস পকুর রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত আমরা পুকুর পাড়ে বসবাসরত বাসিন্দারা মাছ চাষ করে আসছি। কিন্তু কয়েক বছর যাবত আমার গ্রামের জলসা পাড়ার মজি মড়লের ছেলে আব্দুল মান্নান, মহিবুল, মনিরুল, আব্দুস সাত্তার ও তাদের ছেলেরা জোর পূর্বক সেই দুটি পুকুর দখলের চেষ্টা চালায়। এ নিয়ে ২০১৯ সাল থেকে দ্বন্দ্ব চলে আসছে।

২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তারা আমার ও আমার পরিবারের উপর মাছ মারা ও গাছ কাটার মিথ্যে ৭টি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এমনটি কোন কারণ ছাড়ায় তারা আমার ও আমার পরিবারকে প্রান নাশের হুমকি দেয়। মিথ্যে মামলায় আমাকে জেল হাজতে পর্যন্ত যেতে হয়েছে। বার বার আদালতে হাজিরা দিতে দিতে আমি আর্থিকভাবে দারুন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

সম্প্রতি গত বুধবার রাত ১১টার সময় আমি বাড়ীর বাইরে থেকে বাড়ী এসে পাশের পুকুরে হাত-পা ধওয়ার জন্য গেলে তারা আমাকে মাছ মারার মিথ্যে অভিযোগ বিভিন্ন ভাবে গালি গালাজ ও এক পর্যায়ে ১০/১২জন এসে আমার বাড়ীতে হামলা চালায়। আমি বয়ে বাড়ীতে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেই। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।

প্রতিবেশী ও রফিকুল ইসলামের ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাইয়ের উপর ৭টি মিথ্যা মামলা দায়ের করে ঐ মামলাবাজরা। গত বুধবারে রাত তারা বিনা কারণে আমার ভাইয়ের বাড়ীতে হামলা করে, হাত-পা ভেংগে দেওয়া, মেরে ফেলার হুমকিও তারা দেই।

রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রেবিনা বলেন, আমাদের উচ্ছেদের জন্য তারা বিভিন্নভাবে হয়রানী করছে। মিথ্যা মামলা দিয়েও যখন হচ্ছে না তখন নলকূপের পানিও খেতে দিচ্ছে না। সব জায়গায় সরকারীভাবে খাবার পানির জন্য মর্টার দেওয়া হলেও আমাদের এখানে দিচ্ছে না। তাদের পিছনে স্থানীয় মেম্বার যিনি বর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি আছেন।

প্রতিবেশী মহসিন আলীর ছেলে জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি দেখলাম বুধবার রাতে কারা যেন রফিকুল ইসলামের বাড়ীতে চিল্লাচিল্লি করছে। পুকুর কে পাবে আমার জানা নাই। তবে রফিকুল ভাই এর পরিবারের উপর তারা বিভিন্ন সময় হয়রানী করে।

নজরুল ইসলামের ছেলে আব্দুর রহিম বলেন, আমরা পাশেই বসবাস করি। জলসা পাড়ার আব্দুল মান্নান ও তার ভাই ভাতিজারা আমার চাচা রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারকে মেরে ফেলা, হাত-পা ভেঙ্গে ফেলা, বাড়ী উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে আসছে। জোর করে পুকুর দখল করে নেওয়ারও হুমকি দেয়।

এ বিষয়ে অফিসার ইন চার্জ হুমায়ন কবির বলেন, মামলা আদালতের বিষয়। সত্য না মিথ্যে তা আদালত বিচার করবে। আর নির্যাতন ও নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবো।

  • 41
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে