জয়পুরহাটে বিচারককে তালেবানের নামে চিঠি দিয়ে হুমকি

প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২১; সময়: ১:২৬ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, জয়পুরহাট : জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রুস্তম আলীকে বৃহস্পতিবার বিকেলে তালেবানী গোষ্ঠী পরিচয়ে চিঠি দিয়ে হুমকি দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঞা। এই চিঠিতে প্রেরক হিসাবে জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের দুর্গাদহ এলাকার মো. আশরাফ আলির নাম উল্লেখ রয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আমরা তালেবান গোষ্ঠী আফগানিস্থানের মত অতিশ্রীঘ্রই বাংলাদেশ দখল হবে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয়পার্টি, জামায়াত-শিবির এদের আমরা পছন্দ করি না। তালেবানরা অন্যায়ের পক্ষে নয়, ন্যায়ের পক্ষে। বাংলাদেশ চলবে তালেবানের অধীনে, বিচার হবে কোরান সুন্নাহ অনুযায়ী। জামায়াত-শিবির এর জ্বালাও পোড়াও নির্মূল হবে। জামায়াত শয়তানের দল খুনী ফেরাউনের স্বভাব এই দলের। আপনি বিচারক ন্যায়-অন্যায় বিচার হচ্ছে না কথায় কথায় আসামিদের সাজা দেন কীভাবে।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘কোটে যাওয়ার সময় বিচারক, আইজীবী, মুহুরী সবার মাথায় তালেবান পাগড়ী পরিধান করিতে হইবে। পাগড়ী পরিধান না করিলে আদালতে যেতেই দেওয়া হবে না। হামলার স্বীকার হতে হবে। আদালতের আশপাশ পুলিশ থাকবে না। ভারত-বাংলাদেশ হবে তালেবান রাষ্ট্র। বাংলাদেশের নাম হবে ‘পূর্বপাশা’ আর ভারতের নাম হবে ‘সুলতান শাহা’ হিন্দু রিতীনীতি চলবে না দুই দেশে। অফিস আদালতে কোন প্রকার ঘুষ, দালাল থাকবে না।

প্রতিটি গ্রামের বিচার গ্রামেই হবে, এ জন্য সরদার নিয়োগ হবে। তালেবান রাষ্ট্র নেওয়ার পর নারী অধিকার খর্ব করা হবে। বেপরোয়াভাবে নারীরা চলতে পারবে না। চিঠিতে জেলার পাঁচটি থানা ধ্বংস করার কথাও উল্লেখ রয়েছে। চিঠির শেষে লেখা হয়েছে-নিবেদক, তালেবান গোষ্ঠীর বীরযোদ্ধারা, দোগাছি ইউনিয়ন/ভাদশা ইউনিয়নসহ ৫টি উপজেলাবাসীর তালেবানরা।’

জয়পুরহাট আদালতের সরকারি কৌশলী (পিপি) এ্যাড. নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তালেবান সংগঠন নামে জয়পুরহাটের বিচারককে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে । যতই ষড়যন্ত্র করা হক না কেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ কেউ ধ্বংস করতে পারবেনা। যারাই এই চেষ্টা করবে তারাই এই দেশে টিকে থাকতে পারবেনা।

এ ব্যাপারে চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা বলেন, এ রকম হুমকির ব্যাপারে সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। এছাড়াও বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে