আধা ঘণ্টার ব্যবধানে বজ্রপাতে সাতজনের মৃত্যু

প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২১; সময়: ৯:২৩ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : দিনাজপুর সদর উপজেলার উপশহর এলাকায় বজ্রপাতে একসঙ্গে চার কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার বেলা তিনটায় উপশহরের ৪ নম্বর রেলঘুমটি ব্লকের মনোয়ার চৌধুরীর পুকুরের পাশের খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

এর আধা ঘণ্টার মাথায় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার আবদুলপুর ইউনিয়নের সুখদেবপুর গ্রামের ভুড়িয়াপাড়ায় বজ্রপাতে তিন তরুণের মৃত্যু হয়েছে। বাড়ির পাশের পুকুরে ছিপ ফেলে মাছ ধরার সময় এ ঘটনা ঘটে।

সদর উপজেলায় মারা যাওয়া চারজন হলো উপশহর এলাকার সাদিকুল ইসলামের ছেলে মো. আপন, আমিনুল ইসলামের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন, তার ফুফাতো ভাই সিদ্দিক হোসেনের ছেলে মো. হাসান এবং রাজু মণ্ডলের ছেলে মিম হোসেন। ওই ঘটনায় আহত হয়ে দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবলু হোসেনের ছেলে আতিক হোসেন, ইদ্রিস আলীর ছেলে মমিনুল এবং আবদুল গফুরের ছেলে মো. সাজু। তারা সবাই উপশহর এলাকার চকোরিয়াপাড়া মাদ্রাসার বিভিন্ন শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। বয়স ১২ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশের মনোয়ার চৌধুরীর পুকুরের পাশে মাঠে ফুটবল খেলতে নামে একদল কিশোর। হঠাৎ তীব্র মেঘের গর্জনে কিশোরের দল মাঠের পাশে টিনের ছাউনিতে আশ্রয় নেয়। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার উপ–পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন, কিশোরেরা মাঠে ফুটবল খেলছিল। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের আপত্তি না থাকায় নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হবে।

চিরিরবন্দর উপজেলায় মারা যাওয়া তিনজন হলেন সুখদেবপুর ভুড়িয়াপাড়ার সাইফুল ইসলামের ছেলে আবদুর রাজ্জাক (২৮), আলতাফ হোসেনের ছেলে আব্বাস আলী (২৫) এবং মোকছেদ আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৬)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের পরে তিনজন ছিপ দিয়ে স্থানীয় বাসুনিয়ার দিঘীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় তাঁদের ওপরে বজ্রপাত হলে চিৎকার দিয়ে ওঠেন তাঁরা। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা এসে তাঁদের মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তাঁদের মৃত্যু হয়।

চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার বলেন, নিহত তিনজনকেই তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ব্যাপারে থানায় একটি ইউডি মামলা করা হবে।

  • 51
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে