নওগাঁয় টর্চার সেলে আটকে নার্সারী ব্যবসায়ীকে নির্যাতন, স্ত্রীর চুল কর্তন

প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২১; সময়: ১১:৫৮ pm |

মাসুদ রানা, পত্নীতলা : নওগাঁর পত্নীতলার মিঠুন চৌধুরী (২৭) নামের এক নার্সারি ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। পার্শবর্তি উপজেলা মহাদেবপুরের যুবদল নেতা রুহুল আমিন কৌশলে অপহরণ করে তার টর্চার সেলে তিন দিন আটকে রেখে তাদের নির্যাতন করে।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এর পর এক সপ্তাহ পার হলেও এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি বা নির্যাতনকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। ফলে ওই সন্ত্রাসীদের ভয়ে এখন তটস্থ মিঠুনের পরিবার।

রোববার বিকেলে সরজমিনে নির্যাতিত মিঠুনের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, মারাত্মক আহত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। প্রাণভয়ে তারা মামলা দায়ের করতে পারছেন না বলে জানান। তবে তারা নির্যাতনের বিচার চান। বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। টর্চার সেলে আটকে রেখে নির্যাতনের বিষয়টিতে সুধীমহল বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

নির্যাতনের শিকার উপজেলার উত্তর মামুদপুর গ্রামের কৃষ্ণ চৌধুরীর ছেলে মিঠুন চৌধুরী ও তার স্ত্রী শ্যামলী রাণী অভিযোগ করেন, মহাদেবপুর উপজেলার বোয়ালমারী মোড়ের বয়লার ব্যবসায়ী মৃত আবুল কালামের ছেলে যুবদল নেতা রুহুল আমিন তাদের নার্সারি থেকে বিভিন্ন জাতের চারাগাছ কিনতেন।

গত ১৫ আগস্ট সকালে রুহুল তার কাজ করার জন্য মিঠুনকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেটকারে উঠিয়ে নিয়ে মহাদেবপুরে রুহুলের বয়লারে নিয়ে যায়। সেখানে তার বয়লারের সামনে অবস্থিত টর্চার সেলে মিঠুনকে আটকে রেখে মোবাইলফোনে তার স্ত্রীকে ১০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। তার স্ত্রী শ্যামলী রাণী তার মায়ের গলার সোনার মালা বন্ধক রেখে বিকাশে ১০ হাজার টাকা পাঠান।

কিন্তু রুহুল ও তার লোকেরা আরও টাকা চায়। টাকা না পেয়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিঠুনের পায়ের রগ কেটে দেয়, প্লায়ার দিয়ে চিমটিয়ে হাতের আঙুল জখম করে, হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। তাকে ঠিকমতো খেতেও দেওয়া হয়নি।

তৃতীয় দিন ১৭ আগস্ট শ্যামলী পত্নীতলা থেকে মহাদেবপুর থানার সামনে এসে এসআই সাইফুল ইসলামকে বিষয়টি জানিয়ে রুহুলের বয়লারে যান। সেখানে শ্যামলীকে বেদম প্রহার করে তার মাথার চুল কেটে দেয়া হয়। পরে এসআই সাইফুল সেখানে উপস্থিত হয়ে মারাত্মক আহত অবস্থায় শ্যামলী ও তার স্বামীকে রুহুলের টর্চার সেল থেকে উদ্ধার করেন। আহত মিঠুন ও শ্যামলীকে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত রুহুল মিঠুনকে তিন দিন আটকে রাখার কথা স্বীকার করে জানান, টাকা নিয়েও গাছ না দেওয়ায় টাকা তোলার জন্য তাকে আটক রাখা হয়। তবে নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন তিনি।

এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্যাতিতরা অভিযোগ না দেওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। রুহুলের ওই টর্চার সেলে এর আগেও এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের কাছে খবর রয়েছে। এ ছাড়াও সেখানে প্রায়ই মাদকের আসর বসে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

মহাদেবপুর থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ জানান, নির্যাতিত দম্পতিকে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তাদের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোন অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • 586
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে