শাহজাদপুরে ভূল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ৬০ হাজার টাকায় মিমাংসা

প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২১; সময়: ৭:৫২ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের থানারঘাট এলাকার নিউ রংধনু হাসপাতালে রবিবার ভোরে অপারেশন ক্রুটির কারণে মা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে এলাকাবাসি অভিযোগ করেছে। এ ঘটনা ধাপাচাপা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে ৬০ হাজার টাকায় নিহতের পরিবারের সাথে আপোষ মিমাংসা করে লাশ দাফনের জন্য বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়টি স্বীকার করে নিউ রংধনু হাসপাতালের ম্যানেজার শাহিন হোসেন জানান, নিহতের পরিবারের সাথে ৬০ হাজার টাকায় স্ট্যাম্পের উপর লিখিত ভাবে আপোষ মিমাংসা হয়েছে। তিনি আরো বলেন,শনিবার রাত ২টারদিকে প্রসব বেদনা নিয়ে উল্লাপাড়া উপজেলার দূর্গানগর ইউনিয়নের জুংলিপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী সোনিয়া খাতুন(৩০)কে এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় ৪০ মিনিট নরমেল ডেলিভারির জন্য অপেক্ষা করা হয়।

এতে কাজ না হওয়ায় বাঁধন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: ইখতিয়ার উদ্দিন মো: সোহেলকে এনে সিজারিয়ান অপারেশসের মাধ্যমে মৃত ছেলে শিশুর জন্ম হয়। এ সময় মা সোনিয়া খাতুনের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে এ হাসপাতালের মালিক ডাঃ আয়শা বেগম হাসপাতালে ছুটে আসেন ও তাকে এক ব্যাগ রক্ত দেন। কিন্তু তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তিনি তাকে বগুড়া জিয়া মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এর কিছুক্ষণ পর তাকে এ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় তাকে এ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে বেডে নেওয়া কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়। আমরা চিকিৎসার কোন ক্রুটি করিনি।

এ বিষয়ে জানতে বাঁধন হাসপাতালে গিয়ে ডা: ইখতিয়ার উদ্দিন মো: সোহেলকে পাওয়া যায়নি। এরপর এ হাসপাতালের রিসিভশনিস্ট শাহিনা খাতুন তার মোবাইল ফোন নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তার সাথে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে ডা: আয়শা বেগমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানান, শাহজাদপুর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) আব্দুল মজিদ বলেন,ঘটনাস্থালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নিহতের পরিবারের কেউ এ বিষয়ে কোন অভিযোগ দেয়নি। ফলে আমাদেও পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ভাবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আমিনুল ইসলাম খান জানান,এ বিষয়ে আমারা তদন্ত করবো। তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর চিকিৎসকের গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, এ হাসপাতালের বৈধ কোন কগজপত্র না থাকায় ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজেস্ট্রেট হাসপাতালটি সিল করে দেয়। এর ১ মাস পরে স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজির লিখিত অনুমোদন সাপেক্ষে হাসপাতালটি চালু করে। এ হাসপাতালে নানা অসংগতি ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে। তদন্ত হলে সব বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে নিহত সোনিয়া খাতুনের ভাই গাজীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় নিহতদের পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • 59
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে