নওগাঁয় আইজিপির নামে হোয়াটসঅ্যাপ খুলে প্রতারনার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২১; সময়: ৬:৫৮ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ড. বেনজির আহম্মেদসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণের পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসআ্যাপ খুলে প্রতারনার অভিযোগে নওগাঁয় আমিরুল ইসলাম নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নওগাঁ সদর উপজেলার খাগড়া গ্রাম থেকে শনিবার রাতে তাকে আটক করা হয়। আমিরুল ওই গ্রামের আফছার আলী ছেলে।

রবিবার বিকেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া।

সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির সরকারি নাম্বারে হোয়াটস্যাপ আইডিতে বেনজির আহম্মেদ ইউনিফর্ম পরিহিত ছবিযুক্ত করে হোয়াটসঅ্যাপ থেকে হায় মেসেজ আসে। পরে ডিআইজির মোবাইলে সেভকৃত আইজিপি নম্বরের কোন মিল না থাকায় সন্দেহ হলে ডিআইজি নিশ্চিত হওয়ার জন্য উক্ত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল দিলে কেউ ফোন রিভিস করে না।

পরে বিষয়টি আইজিপিকে জানালে আইজিপি তাৎক্ষনিক উক্ত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যাবহারকারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দিলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে আমাকে অবহিত করলে জেলা পুলিশের সাইবার টিমের সভাপতি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমানের নেতৃত্বে সাইবার টিমের সদস্যরা উক্ত হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারির পরিচয় শনাক্ত করে তাকে আটক করে ও ব্যাবহারকৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, আটকের পর প্রাথমিক জিঞ্জাসাবাদে আসামি জানান, প্রায় ১০ থেকে ১২দিন আগে সে তার ব্যবহারকৃত হোয়াটসঅ্যাপ আইডির নাম ও ছবি পরিবর্তন করে সেখাসে আইজিপির ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি এবং আইজিপির নাম ব্যবহার করে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খুলে পুলিশের বিভিন্ন উর্ধতন কর্মকর্তার কাছে মেসেজ পাঠায়। পরে এসব ম্যাসেজের স্কিনশট দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছে বলে বেড়াতো যে, তার সাথে বড় বড় অফিসারদের সম্পর্ক আছে এবং পুলিশ অফিসারদের ছবি ব্যাবহার করে সহজ সরল সাধারন মানুষদের সাথে প্রতারণা ও এলাকায় প্রাধান্য বিস্তারের চেষ্টা করতো।

এমনকি এলাকার মানুষের সাথে খারাপ আচরন ও মারামারি করতো সে। পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান আরো বলেন, আইজিপির নাম ও হোয়াটসঅ্যাপ খুলে অবৈধ সুবিধা নিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে। তবে সে আইজিপি বা কোন উর্ধতন কর্মকর্তার নাম ব্যাবহার করে আর কোন পুলিশ সদস্য অথবা কোন সাধারন মানুষের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেন বা সুবিধা লাভ করছে কি না সে ব্যাপারে আদালতে তুলে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রেসব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে