প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাওয়া ঘরগুলোতে বসবাস শুরু করছে মান্দার আশ্রয়হীন মানুষগুলো

প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২১; সময়: ৬:১১ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ : নওগাঁ জেলার ১১ টি উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ১হাজার ৫৬টি এবং ২য় পর্যায়ে ৫শত ২টি আশ্রয়হীন পরিবারের জন্য মুজিব শত বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সেমিপাকা বাড়ি নির্মান করে দেওয়া হয়েছে । জেলার মান্দা উপজেলার ১১১টি গ্রহহীন পরিবার পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার। ইতিমধ্যে বাড়িগুলোতে বসবাস করতে শুরু করছে পরিবারগুলো। নতুন বাড়িগুলোতে কেমন দিন পার করছেন দীর্ঘদিন আশ্রয়হীন থাকা এই পরিবারগুলো মানুষগুলো।

বৈদ্যীপুর গ্রামে আশ্রয়হীন প্রকল্পের নির্মান কাজ শেষে গত ৬মাস থেকে বাড়িগুলোতে বসবাস করছেন উপকারভুগীরা। কেউ বাড়ির কাজ নিজ হাতে সাড়ছেন আপন মনে , কেউ বা মাছ ধরছেন বন্ধু সাথীদের নিয়ে আবার সেই মাছ নতুন বাড়ির বারান্দায় কাটছেন খুশি মনে। আগের থেকে বর্তমানে অনেক ভালো থাকা মানুষগুলো উপহার পাওয়া ঘরগুলোতে সুখেই আছেন ।

সেমিপাকা ঘরের পাশাপাশি যাতায়াতের জন্য রাস্তা, সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ সহ সার্বিক সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে মান্দা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে । মান্দা উপজেলার সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হালিম জানান- মান্দা উপজেলায় মুজিব শত বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ভুমিহীন এবং গৃহহীন ১১১টি পরিবারের জন্য গৃহ নির্মান কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে । বর্তমানে উপকারভুগীরা সেই ঘরগুলোতে বসবাস শুরু করছেন। তিনি জানান- একটি সেমিপাকা ঘরে ২টি বেডরুম, একটি কিচেন এবং একটি স্বাস্থ্যসম্মত টয়েলেটের পাশাপাশি উপকারভুগী পরিবার গুলো সরকার থেকে সুপেয় পানি পানের জন্য টিউবওয়েল, বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা , যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মান করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার আশ্রয়হীন প্রকল্পের কোন বাড়িতে ফাটল বা দেবে যাওয়ার কোন ঘটনা ঘটে নি এখন পর্যন্ত। তবে প্রকল্পের কোন স্থানে এমন ঘটনা ঘটলে ততক্ষনিক সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান মান্দা উপজেলার এই ইউএনও।

এদিকে মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান- প্রধানমন্ত্রীর আস্থার জায়গা থেকে বাড়িগুলো নির্মানের সময় এর গুনগত মান রক্ষা করে এর কাজ সম্পুর্ন করা হয়েছে । উপকারভুগীরা এখন তার সুফল পাচ্ছে । উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ৯০টি পরিবারের জন্য ১লক্ষ ৭১ হাজার টাকা এবং দ্বিত্বীয় পর্যায়ে ২১ টি পরিবারের জন্য ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা বাড়ি প্রতি বরাদ্দে নির্মান করে দেওয়া হয়েছে । আশ্রয়হীন পরিবারগুলোকে করোনা কালিন সরকারি প্রণোদনার সকল সুযোগ সুবিধার আওতায় ইতিমধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সরকারী অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেওয়া কথা জানান এই কর্মকর্তা।

অপরদিকে নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশিদ জানান- মুজিব শত বর্ষ উপ্লিক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোতে তিনি নিজে পরিদর্শন করেছেন। ১হাজার ৫শত ৫৮টি ঘরের মধ্যে জেলার দুই থেকে তিনটি উপজেলায় তিন থেকে চারটি বাড়িতে ফাটল এবং দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিলো। ইতিমধ্যে সেই ঘরগুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা মেরামত করার পর পরিবারগুলো সেখানে বসবাস করছে। আমার গ্রাম আমার শহর এর মত মান সম্মত উন্নত জীবন যাপনের জন্য প্রকল্প গুলোতে ইতিমধ্যে সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান নওগাঁ জেলার এই জেলা প্রশাসক।

এদিকে মান্দার বৈদ্যিপুর আশয়হীন প্রকল্পে বসবাসরত পরিবার গুলো দিন যাপন করছেন আগের থেকে অনেক ভালো আছেন। তাঁরা জানান- শেখ হাসিনার এমন উপহার পেয়ে নতুন জীবনে বেচে থাকার আশ্রয় পেয়েছেন তাঁরা । ২টি রুম, একটি রান্না ঘর, একটি টয়লেট, একটি বারান্দা সম্মিলিত এই বাড়িগুলোতে তাঁরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রঙিন দিন পার করছেন বলে জানান তাঁরা ।

মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী এমন উপহার স্বাদরে গ্রহণ করে মুজিব কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ভালোবাসা জানিয়েছেন বসবাসরত বৈদ্যিপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের মানুষেরা।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান- মৈনুম ইউনিয়নে ভূমিহীনদের গৃহনির্মান প্রকল্পে উপজেলা প্রশাসন থেকে যাচায় বাছাই সম্পন্ন করে প্রকৃত যারা গৃহহীন তাদের বাড়িগুলো দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁরা সেখানে বসবাস করে এর সুফল্ভোগ করছেন।

বৈদ্যিপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে গত ৬মাস যাবত উপকারভুগীরা বসবাস করছেন । কষ্টের দিন থেকে মুক্তি পেয়ে নতুন জীবন পাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • 127
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে