কনস্টেবল থেকে বরখাস্ত হয়ে এসআই সেজে প্রতারণা

প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২১; সময়: ৮:৫০ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন শাহাদাৎ আলম। কিন্তু মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় ডোপ টেস্টে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর যুক্ত হন প্রতারণার সঙ্গে। পুলিশের পোশাক পরে এসআইয়ের র‌্যাংক ব্যাচ ধারণ করে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি। অবশেষে জনতার হাতে ধরা পড়েছেন শাহাদাৎ।

এ ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহে। জেলার তারাকান্দা উপজেলার মধুপুর বাজারে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জনতার হাতে আটক হন শাহাদাৎ। তিনি ত্রিশাল উপজেলার ধলা নামাপাড়া গ্রামের এমএ মজিদের ছেলে। জেলার সদর উপজেলার ব্রিজমোড় কাঁশবন আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে রিকশায় করে রুবেল নামে এক সহযোগীকে নিয়ে মধুপুর বাজারে যান শাহাদাৎ। এ সময় তার শরীরে পুলিশের এসআইয়ের র‌্যাংক ব্যাচসহ নূরে আলম নামে নেমপ্লেট সংবলিত পোশাক পরিহিত ছিল। পরে তারা বাজারের মোতালেবের দোকান থেকে ১০০ টাকা এবং একটি বেনসন সিগারেট নেন। ফেরত দেবার কথা বলে টাকা নিলেও তা আর ফেরত দিচ্ছিলেন না। এছাড়া সিগারেটের দামও দেননি।

দোকানি পুলিশ সদস্যকে খুঁজতে শুরু করলে এক ফাঁকে পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করে ফেলেন শাহাদাৎ। এ অবস্থায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে শাহাদাতের হাতে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। ব্যাগের ভেতর পুলিশের পোশাক পাওয়া যায়। বিষয়টি তারাকান্দা থানায় জানানো হলে এসআই সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা এসে শাহাদাৎকে আটক করেন। সহযোগী রুবেল পালিয়ে যান।

পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে, শাহাদাৎ পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। নিয়মিত মাদকসেবন করায় ডোপটেষ্টে পজিটিভ হবার পর তিনি ২০২০ সালে চাকরি হারান।

এ ঘটনায় রোববার এসআই সাইদুর রহমান বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশের পোশাক পরে প্রতারণার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। পরে রোববার দুপুরে তার বিরুদ্ধে তিনদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় চাকরি হারান শাহাদাৎ। এসআইয়ের র‌্যাংক ব্যাচসহ পুলিশের পোশাক পরে প্রতারণা করছিলেন তিনি। তার রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। রিমান্ডে এনে কার কার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, বিস্তারিত তথ্য বের করা হবে।

  • 202
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে