নওগাঁয় কবিরাজের চিকিৎসায় হাত হারাতে বসেছে শিশু

প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২১; সময়: ৮:০৮ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ : নওগাঁর সাপাহারে হাতুড়ে কবিরাজের ভুল চিকিৎসায় আল আমিন (৭) নামের এক শিশুর ডান হাতের বেহাল অবস্থা হয়েছে। শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। আল আমিন সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া বিরামপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা আব্দুল মান্নান জানান, গত শুক্রবার (৩০ জুলাই) দুপুরে আল আমিন খেলা করার জন্য বাড়ির পাশে ছোট একটি আমগাছে ওঠে। পরে গাছ থেকে পড়ে তার ডান হাতের বাহুতে আঘাত লাগে। তারা জানতে পারেন যে ছেলের হাত ভেঙে গেছে। এ সময় তার এক আত্মীয় উপজেলার আন্ধাদিঘী গ্রামের হাবিবুরের ছেলে আব্দুল আলীমের পরামর্শে ধামইরহাট উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের হাতুড়ে কবিরাজ জমশেদের কাছে নিয়ে যান।

কবিরাজ বিভিন্ন কায়দা করে আল আমিনের হাতে বাঁশের বাতি দিয়ে হাত বেঁধে দেন। পরে হাতের সেই স্থানে ফোস্কা পড়ে পচন ধরে। তখন তার মা-বাবা আবার কবিরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কবিরাজ এবার চিকিৎসককে দেখানোর পরামর্শ দেন।

এই আধুনিক যুগে মানুষের কাছে এমনটা আশা করা যায় না। শিশুর অভিভাবকরা যদি তাৎক্ষণিক কোনো বিশেষজ্ঞকে দেখাতেন, তাহলে এ অবস্থা হতো না। কিন্তু বর্তমানে বাচ্চার হাতের অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। ডা. মুহাম্মদ রুহুল আমিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা

রোববার (১ আগস্ট) দুপুরে আল আমিনকে তার মা-বাবা সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা হাতের অবস্থা দেখে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কবিরাজ জমশেদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন এবং বাচ্চার হাত ভালো হয়ে যাবে এমনটা দাবি করেন। এ ছাড়া অনেক রোগী তার কাছে ভালো হয়েছে বলেও জানান দাবি করেন তিনি। কবিরাজি বিষয়ে লাইসেন্স বা কোনো প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সেগুলো কিছুই নেই ।

সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মোর্শেদ মঞ্জুর কবির লিটন জানান, বাচ্চার হাতের অবস্থা খারাপ পর্যায়ে চলে গেছে। এ অবস্থায় আমরা বাচ্চাটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। বাচ্চার হাত রাখা বা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ নেবে। এ ছাড়া কবিরাজকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তিনি।

সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, এই আধুনিক যুগে মানুষের কাছে এমনটা আশা করা যায় না। শিশুর অভিভাবকরা যদি তাৎক্ষণিক কোনো বিশেষজ্ঞকে দেখাতেন, তাহলে এ অবস্থা হতো না। কিন্তু বর্তমানে বাচ্চার হাতের অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

  • 241
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে