মান্দায় ভাতার দাবিতে ইউএনও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২১; সময়: ৪:৪০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা : নওগাঁর মান্দায় বিভিন্ন পর্যায়ের ভাতার দাবিতে ইউএনও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন ভাতাবঞ্চিত অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ। সোমবার দুপুরে ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ঈদের আগে ভাতার দাবিতে একটি অভিযোগ ইউএনও আব্দুল হালিমের নিকট দাখিল করেন তাঁরা।

জানা গেছে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ব্যাংক থেকে তাঁরা সঠিক সময়ে ভাতার টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু নগদ একাউন্ট চালুর পর থেকে শুরু হয় বিড়ম্বনা। এই একাউন্টের মাধ্যমে কেউ কেউ টাকা পেয়েছেন। অনেকে আবার বঞ্চিত হয়েছেন। খোঁজ নিয়ে উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে একই ধরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, বিকাশ একাউন্ট খুলতে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবির প্রয়োজন হলেও নগদ একাউন্ট খুলতে এসবের কিছুই লাগেনি। ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) প্রত্যেক ভাতাভোগীর যাবতীয় তথ্য এন্ট্রি করা হয়। ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা এ কাজে সহযোগিতা করেন। পরবর্তীতে উপজেলা সমাজসেবা দপ্তর থেকে তালিকাভূক্তদের যাচাই-বাছাই ও নগদ একাউন্ট খুলে দেওয়া জন্য ‘নগদ কোম্পানি’র একটি করে দল প্রত্যেক ইউনিয়নে পাঠানো হয়েছিল।

তাঁদের অভিযোগ, ‘নগদ কোম্পানি’র দল যাচাই-বাছাইয়ের পর কিছু নতুন মোবাইল নম্বর সংযোজন করে। উপজেলা সমাজসেবা দপ্তর ও নগদ কোম্পানির লোকজনের খামখেয়ালির কারণে ভাতাভোগীরা টাকা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তেঘরিয়া গ্রামের বয়স্ক ভাতাভোগী সায়েরা বেওয়া জানান, আগে ব্যাংকের মাধ্যমে ঠিকমত টাকা পাওয়া যেত। মোবাইল একাউন্ট খোলার পর সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার অনেকে মোবাইলে টাকা পেলেও তিনি বঞ্চিত হন।

বাংড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী মোজাম্মেল হক বলেন, গত ৯ মাসে তিনি ৪৫০০ টাকা ভাতা পাবেন। গত রোববার ১৫০০ টাকা পেলেও আরো ৩০০০ টাকার কোন হদিস নেই। এ টাকা কোথাও গেল এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার জানান, তাঁর ইউনিয়নের প্রত্যেক ওয়ার্ডে ১৪-১৫ জনেরও বেশি নারী-পুরুষ ভাতা বঞ্চিত হয়েছেন। নগদ একাউন্ট খোলার পর থেকে এ বিড়ম্বনায় পড়েছেন ভাতাভোগীরা।

প্রসাদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন জানান, উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের গাফলতির কারণে অনেক ভাতাভোগী সরকারের সুবিধা বঞ্চিত হয়েছেন। ঈদের আগেই তাদের ভাতার টাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ভারশোঁ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন বলেন, ‘আমার ইউনিয়নেও এ ধরণের জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে রেজুলেশনের মাধ্যমে ভাতাবঞ্চিত ৬৭ জনের নামের একটি তালিকা উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরে জমা দিয়েছি।’

গনেশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হানিফ উদ্দিন মন্ডল বলেন, ‘প্রত্যেকদিনই ভাতা বঞ্চিতরা অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে আসছেন। বিষয়টির দ্রুত সুরাহা হওয়া প্রয়োজন।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আগে ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেছেন ভাতাভোগীরা। সে ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হলে তার সমাধান করা সম্ভব ছিল। কিন্তু নগদ একাউন্টে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান জটিলতার বিষয়টি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হালিম ভাতাভোগীদের অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • 71
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে