বঙ্গবন্ধুর নামে ৪৫ বছর ধরে পশু কোরবানী করছেন লতিফ বিশ্বাস

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২১; সময়: ২:৪৮ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : গত ৪৫ বছর ধরে ত্যাগের মহিমান্বিত কোরবানীর ঈদে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে পশু কোরবানী করছেন সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট কালো রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর থেকেই তিনি তাদের আত্তার শান্তি কামনা করে এই বিরল কোরবানী চালু রেখেছেন। এদিকে ঈদের দিন কোরবানী করা এ পশুর মাংস ৫ শতাংশ রেখে বাকি ৯৫ ভাগ মাংস এলাকার দুঃখী মাঝে মাঝে বিতরন করছেন।

জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি প্রবীন রাজনীতিবিদ আব্দুল লতিফ বিশ্বাস। ছাত্রলীগ রাজনীতি থেকে উঠে আসা এ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান থেকে হয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। জীবন্ত কিংবদন্তি লতিফ বিশ্বাস সকল ক্ষেত্রেই তিনি সফলচেতা মানুষ।

জেলা আওয়ামী লীগের ভ্যানগার্ড ও নৌকার ভোটের মাস্টার হিসেবেও তার খ্যাতি উত্তরাঞ্চল তথা দেশ জুড়ে। অন্যান্য গুনের অধিকারী মানবতাবাদী লতিফ বিশ্বাস মুলত জেল-জুলম আর অত্যাচার সহ্য করেই সাধারন কৃষক পরিবারের সন্তান থেকে মর্যাদা পেয়েছেন বাংলার রাজপ্রসাদের মন্ত্রী হিসেবে। আওয়ামীলীগের জন্য নিবেদিত বঙ্গবন্ধু আদর্শের অনুসারী হিসেবে তিনি দীর্ঘকাল ধরে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে যাচ্ছেন প্রতিবার ঈদে পশু কোরবানীর ক্ষেত্রে।

৪৫ বছর ধরে জাতির পিতার নামে ঈদে কোরবানী দেয়ার প্রথা সম্পর্কে লতিফ বিশ্বাসের সহধর্মিনী বেলকুচি পৌরসভার সাবেক মেয়র বেগম আশানুর বিশ্বাস জানান, জেলার বেলকুচি উপজেলার কামারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা লতিফ বিশ্বাস ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির পিতাকে স্ব-পরিবারে হত্যার খবর শুনে প্রতিবাদ মুখোর হন। এ কারণে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসামী হয়ে জিয়া সররকার ক্ষমতায় থাকাকালীন নারায়নগঞ্জ, ঢাকা, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রংপুর জেলে কারাবাস করেন।

পরবর্তিতে রংপুর স্পেশাল মার্শাল ল কোর্টে বিচারের সম্মুখীন হয়ে নির্দোষী খালাস পান। এরপর মুল আওয়ামীলীগ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং বেলকুচি থানা আওয়ামীলীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন করে দলকে সুসংগঠিত করেন।

আশানুর বিশ্বাস আরো জানান, ১৯৭৬ সালে যখন তিনি জেল হাজতে কারারুদ্ধ, তখন আমাকে বঙ্গবন্ধুর নামে তার পরিবারের শহীদ সকল সদস্যের আত্তার শান্তি কামনা করে পশু কোরবানী দিতে বলেন। আমি তখন হাজার টাকা দিয়ে একটি মাঝারি আকারের ষাঁড় কিনে পশু কোরবানী দেই। এরপর থেকে তিনি জাতির পিতার নামে ষাঁড় কোরবানীর প্রথা অব্যাহত রেখেছেন। তবে বিষয়টি পরিবারের দু-একজন সদস্য ছাড়া কেউ জানাতেন না। এরপর ১৯৯৬/৯৭ সালে শেখ হাসিনা প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম ভাতা চালু করেন। এরপর মাসিক ভাতার টাকা সারা বছর গুছিয়ে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা এবং নিজের নামে পশু কোরবানী করছেন।

লতিফ বিশ্বাস গত কয়েকদিন আগে এনায়েতপুর থানার বেতিল বাজারে ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা ও দলীয় নেতা কর্মীদের সামনে বিষয়টি কিছুটা উল্লেখ করেন। কতটুকু বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা থাকলে এমন কাজ দীর্ঘ দিন ধরে অব্যাহত রাখা যায় তার এ কথা শুনে হতভাগ হয়ে যান। তখন বিষয়টি উপস্থিত সাংবাদিকরা জানতে পারেন।

পরে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কোরবানীর জন্য বড় ৩টি ষাড় বাড়িতে বেঁধে রাখা হয়েছে। এখানে একটি স্ত্রী আশানুর বিশ্বাস, একটি ছেলে লাজুক বিশ্বাস এবং আরেকটি লতিফ বিশ্বাসের কেনা। ২ লাখ টাকায় কেনা লতিফ বিশ্বাসের পশুটি অতীতের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও তার নামে কোরবানী হবে।

এ ব্যাপারে লতিফ বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি অনেকটা গোপনেই ছিল। হঠাৎ মুখ থেকে তা বের হয়েছে। আসলে জাতির পিতার ডাকে সারা দিয়েই জীবন বাজী রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। দেশ ও মানুষের প্রতি তার অকুণ্ঠ ভালবাসা। তার ঋন আমরা জাতি হিসেবে কখনে শোধ করতে পারবো না। তাই তার প্রতি আমার বিন¤্র শ্রদ্ধা আমৃত্যুকাল রবে। এছাড়া তার যোগ্য কণ্যা শেখ হাসিনা বাবার সে ধারাবাহিকতা দেশের মানুষের জন্য অব্যাহত রেখেছেন। দেশ অগ্রগতীতে এগিয়ে নিচ্ছেন বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে। তাই তাদের জন্য এ আমার ছোট্ট ভালবাসা। যা কখনো প্রকাশ করিনি। তিনি আরো জানান, ঈদের নামাজ পড়ে কোরবানীর পশুটি নিজ হাইে জবাই করি। এরপর ৫ শতাংশ মাংস নিজের জন্য রেখে পুরোটা অসহায়দের জন্য বিতরন করা হয়।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা এ্যাড. আব্দুল খালেক জানান, প্রকৃত পক্ষে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করা উত্তরবঙ্গের এখন দলের নিবেদিতপ্রাণ প্রবীন নেতাদের মধ্যে লতিফ বিশ্বাস অন্যতম একজন নিঃস্বার্থবান ব্যক্তি। তিনি দল, মানুষ ও দেশের জন্য এক অনন্য ব্যক্তি। লাখ-লাখ ভক্ত-অনুসারীদের এমন নেতা কমই পাওয়া যাবে এখন। বিশেষ করে ৪৫ বছর ধরে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নামে পশু কোরবানী করে তিনি এক বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এজন্যই তিনি আমাদের কাছে এক আদর্শের নাম। তবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এ দেশপ্রেমিক নেতা এখন অবমুল্যায়িত। এটাই আমাদের দুঃখ।

  • 1.4K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে