প্রেমিকের হাতেই খুন মিরপুরের স্কুল ছাত্রী ফাতেমা, শরীরে নির্যাতনের বীভৎস চিহ্ন

প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২১; সময়: ৯:০৬ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া : প্রেমিকের হাতে খুন হয়েছে কুষ্টিয়ার মিরপুরের স্কুলছাত্রী উম্মে ফাতেমা (১৪)। বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় তাকে নৃশংসভাবে খুন করে তার প্রেমিক আপন (১৮)। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মাথায় আটক আপন পুলিশের কাছে এই স্বীকারোক্তিই দিয়েছে। আপন মিরপুর পৌরসভার পৌর এলাকার মিলন আলীর ছেলে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খায়রুল আলম আপনের বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন। পুলিশ সুপার জানান, আটক আপনের সাথে ঐ স্কুল ছাত্রীর পূর্বে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ৩টায় মিরপুর উপজেলার কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কের ভাঙ্গা বটতলা নামক স্থানের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত উম্মে ফাতেমা মিরপুর পৌরসভার ওয়াবদা পাড়া এলাকার খন্দকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে। সে মিরপুর বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো।

এদিকে, স্কুল ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করে চার ঘন্টার মাথায় ঘাতক আপন কে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আপনের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার খাইরুল আলম আরো জানান, ফাতেমা বেশ কিছুদিন ধরে আপনকে বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। বিয়ে না করলে আপনের নামে চিরকুট লিখে সে আত্মহত্যা করবে বলে হুমকি দেয় আপন কে। এতে ভয় পেয়ে আপন ফাতেমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সে ফাতেমাকে পালিয়ে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। ফাতেমা সরল বিশ্বাসে সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। মঙ্গলবার রাতে তারা পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সে অনুযায়ী আপন আগে থেকে ফাতেমার বাড়ির পাশে অপেক্ষায় থাকে। রাত গভীর হলে ফাতেমার বাড়ি সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন সে বেরিয়ে আসে ঘর থেকে। পরে ফাতেমাকে ভাঙ্গা বটতলা এলাকায় একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে নৃশংস ভাবে হত্যা করে প্রেমিক আপন।

এদিকে, আজ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ফাতেমার ময়নাতদন্ত করেন মেডিকেল অফিসার রুমন রহমান ও সুতপা রায়। তারা বলছেন, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এমনকি তার শরীর পোড়ানোও হয়েছে। গলায় রশি প্যাঁচানো ছিল। কিশোরীকে ধর্ষণও করা হয়ে থাকতে পারে। কিছু বিষয় লক্ষ্য করা গেছে। সেটা নিয়ে আরও আলোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

এদিকে ওই কিশোরীর মামা বলেন, তাকে হয়তো প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করা হয়েছে। এরপর তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তার সঙ্গে কারও কোনো সম্পর্ক ছিল না। গতকাল সকালে বাড়ির দরজার সামনে থেকে হাতের একটি ব্রেসলেট পাওয়া গেছে। সেটি পুলিশ নিয়ে গেছে। তারা এ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে