লকডাউন শিথিলে নওগাঁয় জমজমাট পশুহাট

প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২১; সময়: ৬:১৮ pm |

শফিক ছোটন, নওগাঁ : লকডাউন শিথিল করার পর নওগাঁয় জমে উঠেছে পশু বেচা-কেনার হাটগুলো। যারা কুরবানীর পশু কিনতে অপেক্ষায় ছিলেন তারা সুযোগ পেয়ে গরু, মহিষ ও ভেড়া-ছাগল কিনতে হাটে ছুটছেন।

 

হাট খুলে দেয়ায় পশু পালনকারী, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাঝে অনেকটা স্বস্থি ফিরেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ইজারাদারদের ব্যবস্থাপনায় এবার বেশীর ভাগ হাট বসানো হয়েছে ফাঁকা মাঠে। তারপরও হাটে অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারীর কথা বলা হচ্ছে।

 

এদিকে পশু বেচা-কেনা পুরোদমে শুরু হওয়ায় ব্যস্ত হয়ে পরেছেন স্থানীয় ব্যাপারীরা। খামার ও গ্রামে-গ্রামে গিয়ে তারা কৃষকের কাছ থেকে গবাদিপশু সংগ্রহ করে হাটে তুলছেন। অনেক কৃষক নিজেই পালনকরা গরু-ছাগল বিক্রির জন্য হাটে তুলছেন।

 

নওগাঁ জেলায় পশু বিক্রির প্রায় ছোট-বড় ৩০ টি হাট বসে। বুধবার ছিলো ঐতিহ্যবাহী মাতাজি হাট। কুরবানীর পশু বেচা-কেনার সুযোগ পেয়ে ওই হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার উপচে পড়া ভির দেখা গেছে। তবে গরু ও ছাগলের সরবরাহ ও ভাল বেচা-কেনা হয়েছে বলছেন তারা।

 

হাটগুলোতে প্রতি বছরের মত এবারো দেশীয় জাতের মাঝাড়ি আকারের গরুর চাহিদা বেশী। সাড়ে ৪ থেকে ৫ মন ওজনের ষাঁড় ৭৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। সেই তুলনায় বড় গরুর দাম অনেকটা কম। ৮ থেকে ১০ মন ওজনের কুরবানীর গরু বিক্রি হচ্ছে দেড় লাখ থেকে পৌনে দুই লাখ টাকায়। ক্রেতারা বলছেন, গেলো বছর থেকে এবার গরুপ্রতি দর ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা বেশী।

 

মাতাজি হাটে কুরবানীর পশু কিনতে এসে ময়নুল, জয়নাল ও আরো বেশ কয়েকজন ক্রেতা বলেন, মাঝাড়ি আকারের ষাঁড় গেল বছর ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকায় মিলেছে। এবার শুরু থেকেই বাজার চড়া। হাটে সরবরাহ থাকলেও বিক্রেতারা দামে ছাড়ছেন না।

 

বিক্রেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন লকডাউনে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। মহামারী মোকাবেলা করে পশু পালনে খরচ হয়েছে বেশী। ময়েন উদ্দিন নামে এক বিক্রেতা বলেন- তাঁর ৬ মন ওজনের একটি ষাঁড় খামারে পালন করতে দুই বছরে ব্যায় হয়েছে ২৬ হাজার টাকা। দুই বছর আগে ওই গরুটি তিনি কিনেছিলেন ৩৫ হাজার টাকায়। দীর্ঘদিন লালন-পালন করেও খুববেশী লাভ আসছে না।

 

বড় গরু বিক্রি হচ্ছে কম। নাদুস-নুদুস গরুগুলো কিনতে রাজধানী থেকে ব্যাপারী আসবে। সেই অপেক্ষা করা হচ্ছে জানালেন আরেক বিক্রেতা মহাদেবপুর এলাকার রমজান আলী। অনেকেই এখনও বড় গরু হাটে তোলেন নি বলেন তিনি।

 

আজিজুল, মোকারমসহ ক’জন স্থানীয় ব্যাপারী বলেন- গ্রামে গিয়ে মোটা তাজা ষাঁড় মিলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এবছর খামারে গরু পালন হয়েছে কম। ইতোপূর্বে পরপর কয়েক বছর লোকসানে অনেকেই ব্যানিজ্যিক ভাবে পশু পালন ছেড়ে দিয়েছেন। এবার ভাল দাম পাবে খামারিরা, বলেন তিনি।

 

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো: হারুন-অর রশীদ জানান, কুরবানী ঈদে গবাদি পশু বিক্রির সবচেয়ে বড় মওসুম। তাই বিভিন্ন স্থানে ফাঁকা মাঠে হাটের ব্যস্থা করা কয়েছে। হাটগুলোতে যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলে কেনা-বেচা করেন সেটি নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শতভাগ মানুষ যাতে মাষ্ক পরিধান করে ও দূরত্ব বজায় রাখে সেজন্য কর্মকর্তারা হাটে তদারকী করবেন।

 

অন্যদিকে পশু হাটগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করা হয়েছে জানিয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া। তিনি বলেন- প্রতিটি হাটে অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেগুলোতে পুলিশ মোতায়েন আছে। জাল টাকা সনাক্ত করণসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে সবধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে