কুড়িগ্রামে মহিলা কাউন্সিলরের ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা, কাউন্সিলর গুরুতর জখম

প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২১; সময়: ৬:২৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় এক প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা এবং ওই যুবকের মাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী মােঃ কাজল খান কাশেম নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। বুধবার কুড়িগ্রামের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কাচ্চিদা গ্রামে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম জাহিদ হাসান (১৮)। তিনি প্রতিবন্ধী ছিলেন বলে জানান এলাকাবাসী। ওই ঘটনায় আহত জাহিদ হাসানের মা ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য অলিনা বেগম ( ৪৮)।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাশেম একই গ্রামের সাইফুল হকের ছেলে। কুডিগ্রাম সদর থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জুন) সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় মহিলা কাউন্সিলর অলিনা বেগমের বাড়িতে এলাকার এক মহিলা ও তার মেয়ে ত্রাণ চাইতে আসেন। এরপর অলিনা বেগমের বাড়ীর সামনে প্রতিবেশী কাশেমের বাড়ী সংলগ্ন রাস্তার উপর ত্রাণ নিতে আসা মহিলা ও তার মেয়ে সাথে অলিনা বেগমের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পূর্ব থেকে কাশেমের সাথে মেম্বার ছলিমার রাস্তা নিয়ে দন্দ ছিল । তাদের কথা-কাটাকাটি শুনে প্রতিবেশী কাশেম বাড়ী থেকে মনে করেন অলিনা বেগম রাস্তার দ্বন্দের জের ধরে তাকে ও তার পরিবাররের লােকজনদের গালি দিচ্ছে।

এরপর কাশেম বাড়ী থেকে একটি ইউক্লিপটাস গাছের ডাল নিয়ে এসে অলিনা বেগমের উপর অতর্কিত হামলা করেন। এতে অলিনা বেগমের মাথা, নাকে, পিঠে গুরুতর জখম হয়। এতে অলিনা বেগম মাটিতে পরে গেলে তাকে রক্ষার জন্য তার প্রতিবন্ধি ছেলে জাহিদ হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে কাশেম তার হাতে থাকা ইউক্লিপসার্ট গাছের ডাল দিয়ে জাহিদ হাসানের মাথা, বুক, পিঠে এলােপাতাড়ি মারপিট করেন। মারপিটের আঘাত জাহিদের মাথার টিউমারে লেগে টিউমার ফেটে গুরুত্বর জখম হয়।

স্থানীয় লােকজন ছলিমা ও তার ছেলে জাহিদকে নিয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের নিয়ে আসলে কয়েক ঘন্টা পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাহিদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আর গুরুতর আহত মহিলা কাউন্সিলর অলিনা বেগম কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ওসি খান মো. শাহরিয়ার জানান, ইতোমধ্যে মূল আসামী কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে