জয়পুরহাটে মোবাইল সেট ভাঙ্গার অপরাধে জীবন দিতে হলো স্ত্রীকে

প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২১; সময়: ৮:৩৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, জয়পুরহাট : জয়পুরহাটের কালাই পৌর শহরের একটি ধান শুকানোর চাতালে মোবাইল সেট ভাংচুর করার অপরাধে নিজের স্ত্রী শাহিনুর আকতার ৩ সন্তানের জননীকে (৩০) মারপিট করে হত্যা করেছে স্বামী আজিবর রহমান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পৌর শহরের পাঁচশিরা-মাত্রাই সড়কের রেহেনা চাউল কল-২ নামে ধান শুকানোর চাতালে এ হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনার পর থেকে স্বামী আজিবর রহমান পলাতক রয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। রির্পোট লেখাপর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শাহিনুর-আজিবর দম্পতির বাড়ী গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার বুরুঙ্গি গ্রামে। তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে প্রায় ২০ বছর ধরে কালাই পৌর শহরের বিভিন্ন ধান শুকানো চাতালে কাজের মধ্যে বসবাস করে আসছিলেন। স্বামী-স্ত্রী মিলে ভাল ভাবেই তাদের জীবন যাপন চলছিল। সংসারে দুই ছেলে আশিকুর রহমান আপন (১২) ও পরান (৮) এবং মেয়ে খুশি (২)।

মঙ্গলবার বিকেলে শাহিনুর-আজিবর দম্পতির দুই ছেলে আপন ও পরান চাতালে ছোট বোন খুশিকে নিয়ে একেকজন ৪০ মিনিট করে বাবা আজিবর রহমানের মোবাইল সেটে গেম খেলছিল। এই ফাকে স্বামী-স্ত্রী মিলে ধান শুকানোর কাজ করছিল। বড় ছেলে আপন ৪০ মিনিট খেলার পর ছোট ছেলে পরানকে মোবাইল দেয়। তখন বোন খুশিকে নিয়েছিল আপন। হঠাৎ করে খুশি কান্না করতে থাকলে মা শাহিনুর কাজের ফাঁকে এসে মোবাইল সেট কেড়ে নেয় এবং দুই ছেলেকে শাসন করে। এমন অবস্থা দেখে বাবা আজিবর তার স্ত্রীকে একটি থাপ্পর মারে। তখন স্ত্রী শাহিনুর স্বামীর উপর রাগ করে ওই মোবাইল সেট মেঝেতে আছাড় দিয়ে ভেঙ্গে ফেলে।

এমন দৃশ্য দেখে স্বামী আজিবর তার স্ত্রী শাহিনুরকে মারপিট করতে থাকে। এক পর্যায়ে শাহিনুর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ওই অবস্থায় স্বামী ও প্রতিবেশীরা মিলে শাহিনুরকে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে করোনার রোগী ভর্তি থাকায় তাদেরকে চিকিৎসকরা পাশর্বর্তী ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ওই অবস্থায় অটো ভ্যানে তার স্ত্রীকে রেখে স্বামী আজিবর রহমান পালিয়ে যায়।
নিহত শাহিনুরের ছোট ছেলে পরান বলেন, মোবাইল ভাঙ্গার জন্য বাবা এসে মাকে মারতে মারতে বুকে লাথি মারে। তখন মা মাটিতে পরে যায়। বাবা ও সবাই মিলে মাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমার মা মারা গেছে।

প্রতিবেশী রেজাউল করিম বলেন, মারপিটের ঘটনার পর আমি এসে দেখি তার স্ত্রী মাটিতে পড়ে আছে। তখন ওর স্বামী এবং আমরা সবাই মিলে অটোভ্যান করে কালাই হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে করোনার রোগী ভর্তি থাকায় তাকে নিয়ে ক্ষেতলাল হাসপাতালে যাওয়ার পথে সে মারা যায়। শাহিনুর মারা যাওয়া দেখে স্বামী আজিবর টাকা ভাংতি করার কথা বলে লাশ রেখে পালিয়ে যায়। আমরা বাধ্য হয়ে লাশ নিয়ে চাতালে আসি।

নিহত শাহিনুরের ভাই শিপন বলেন, আমার ভগ্নিপতি একজন নেশাখোর। এর আগেও বেশ কয়েকবার তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। আজ আমার বোনকে সামান্য একটা মোবাইল সেট ভাঙ্গার জন্য মারপিট এবং নির্যাতন করে হত্যা করেছে। ওর বিচার চাই।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বামী পলাতক রয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত সাপে্েক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে