মহাদেবপুরে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রতারণা করে একাধিক বিয়ের অভিযোগ

প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২১; সময়: ৬:৫৮ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিয়ামতপুর : নারী লোভী, টাকা লোভী প্রতারক, প্রতারণা করে একাধিক বিয়ে করা, অধিক টাকা আয় করার জন্য স্ত্রীকে ঠিকাদার বানিয়ে সরকারী কাজ করা, এরকম একাধিক অভিযোগ উঠেছে সরকারী চাকুরীজীবি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। তার নাম আহসান হাবীব। তিনি নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার জয়পুর সরদারপাড়ার গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে। বর্তমানে তিনি নেত্রকোনায় কর্মরত।

প্রকৌশলী আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে প্রতারণা করে একাধিক বিয়ে, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন তার স্ত্রী ডাঃ সুমনা ইসলাম। তিনি মহাদেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়াও সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব বরাবরও লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রকৌশলী আহসান হাবীব নেত্রকোনায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রতারণা করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ডাঃ সুমনা ইসলামকে ছাড়াও আরো দুটি বিয়ে করেন যা ডাঃ সমুনা ইসলাম জানতেন না। এছাড়া ডাঃ সুমনা ইসলামের নামে ঠিকাদারী লাইসেন্স করে সরকারী চাকুরীজীবি হওয়া সত্ত্বেও গোপন ঠিকাদার সেজে সরকারী কাজ করেন।

এ বিষয়ে ডাঃ সুমনা ইসলাম বলেন, আমার স্বামী আহসান হাবীব প্রথম স্ত্রী আরিফা পারভীনের কথা জানতাম না। তবে দ্বিতীয় স্ত্রী হুমাইয়ারা রহমানের কথা জানতাম। তাকে তালাক দিয়েছে মর্মে আমাকে তালাকনামা দেখায়। সে কারণে আমি তাকে বিয়ে করার জন্য রাজী হই। এ বছরের ২৫ জানুয়ারী আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর হতে আমাকে কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেয় না। আমার স্বামীর আত্মীয়স্বজনের কাছে আমাকে গোপন রাখতো। সম্প্রতি গত ৭ জুলাই আমার শ্বশুর মারা যাওয়ার সংবাদে স্বামীর বাড়ীতে আসার পথে মহাদেবপুর উপজেলা সদরে আমার স্বামীর কিছু ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী আমাদের পথরোধ করে হত্যার হুমকি দেয়। আমরা যেন আমার স্বামীর বাড়ীতে না যাই। পরে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে। আহসান হাবীবের দ্বিতীয় স্ত্রী বর্তমানে গর্ভবতী।

এ বিষয়ে প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, প্রয়োজনে মানুষ একাধিক বিয়ে করতে পারে। আমিও করেছি। আমার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়ে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট। আমাকে সামাজিকভাবে ছোট করার জন্যই এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু রায়হান সরদার বলেন, দুজন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কাজ চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে