কথিত পরকিয়ার শালিসে যুবককে বেত্রাঘাত, ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২১; সময়: ৫:৪৬ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া : গৃহবধূর সঙ্গে কতিত পরকিয়ার অভিযোগে শালিসের নামে আবারও মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে যুবককে। তাকে প্রকাশ্য জনসমুখে ৩০ ঘা বেত মারা হয়। এছাড়াও জুতার মালা পরিয়ে ঘুরানো হয় গ্রাম। পাশাপাশি জরিমানাও করা হয়েছে। একই সঙ্গে জোর করে স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয় ওই গৃহবধূকে।

রোববার সকালে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে সোমবার আটক করেছে পুলিশ।

মালিহাদ ইউপির চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, ঝুটিয়াডাঙ্গা গ্রামের সেন্টু আলীর ছেলে সাইফুল ইসলামকে (২৫) একই এলকার এক গৃহবধূর (২২) সঙ্গে কথিত পরকিয়ার অভিযোগে গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে আটক করে স্থানীয়রা। সে সময় ওই গৃহবধূকেও আটক করা হয়। পরে রাতেই তাদের ওই ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নওয়াব আলীর আসাননগর গ্রামের বাড়িতে আটকে রাখা হয়।

রোববার সকাল ১০টার দিকে ওই ইউপি সদস্যের বাড়ির সামনেই শালিস বসে। শালিসে ইউপি সদস্য নওয়াব আলী ও মালিহাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আকরাম হোসেন নেতৃত্ব দেন। শালিস বৈঠকে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে ৩০ ঘা বেত মারাসহ গলায় জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম ঘুরোনো ও তিন হাজার টাকার জরিমানা করার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়াও ওই গৃবহধূ তার স্বামীকে তালাক দেবে বলেও সিদ্ধান্ত দেন মাতব্বররা। শালিসে সাইফুলকে বেত মারার দায়িত্ব দেওয়া হয় ইউপি সদস্য নওয়াব আলীকে।

এ সংক্রান্ত ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় শখানেক মানুষ ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন যুবক সাইফুলকে। বেত মারার সময় যাতে সাইফুল বাধা দিতে না পারে তাই প্রথমেই তার হাত বেঁধে দেওয়া হয়। এর পর বিশাল শরীরের অধিকারী ইউপি সদস্য নওয়াব আলী গুনে গুনে বেত মারা শুরু করেন সাইফুলের শরীরে। তার সঙ্গে সমস্বরে চিৎকার করে বেতের বাড়ি গুনছেন সমবেত মানুষ। বেতের আঘাত সইতে না পেরে এক পর্যায়ে মাটিতে পড়ে যান হালকা পলকা গড়নের সাইফুল।

তখনও বেশ কিছু বাড়ি মারা বাকি। কিন্তু মাটিতে লুটিয়ে পড়েও ছাড় পেলেননা যুবক। একটু দয়া-দাক্ষিণ হলনা ইউপি সদস্য বা মাতব্বরদের মনে। ওই অবস্থাতেই অবশিষ্ট বেতের বাড়ি মারার কাজ চালিয়ে গেলেন নওয়াব আলী। বেত্রাঘাত শেষ হলে সাইফুলকে জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম ঘুরানো হয়। পরে তার কাছ থেকে আদায় করা হয় জরিমানার ৩ হাজার টাকা। ওই টাকা ইউপি সদস্য নওয়াব আলী নিজের কাছেই রেখে দেন।

এদিকে শালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি স্ট্যাাম্প পেপার নিয়ে এসে তাতে তালাক নামা লিখে জোর করে অভিযুক্ত গৃহবধুর সাক্ষর নেওয়া হয় বলেও জানান ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন।

চেয়ারম্যান জানান, গ্রামের কিছু মানুষ সাইফুলের সঙ্গে ওই গৃহবধুর পরকিয়া চলছিল বরে দাবি করছেন। চেয়ারম্যান বলেন, তবে আরেকটি পক্ষ বলছেন বিষয়টি সত্যি নয়। তাদের ভাষ্যমতে, ওই গৃহবধুর সঙ্গে তার দুই ভাসুরের বিরোধ রয়েছে। দুই ভাসুর তার প্রতিশোধ নিতে পরকিয়ার গল্প ছড়িয়েছে। চেয়ারম্যান জানান, শালিসের নামে যে বর্বর কাজ করা হয়েছে তা খুব দু:খজনক। তিনি ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে, ইউপি সদস্য নওয়াব আলীসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে মিরপুর থানা পুলিশ। মিরপুর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, ‘যারা ওই শালিশ বৈঠক করেছেন তাদেরেকে থানায় এনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে