আশ্রয়ণ পল্লীতে সুখেই দিন কাটছে প্রতিবন্ধী দম্পতির

প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২১; সময়: ৩:০৭ pm |

জিল্লুর রহমান মান্দা : প্রতিবন্ধী আবুল কালাম আজাদ। সকলে তাঁকে আজাদ নামেই চেনেন। এক সময় মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। অন্যের এক চিলতে জমিতে ঝুপড়ি ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন তিনি। সেই নতুন ঠিকানায় সুখেই কাটছে প্রতিবন্ধী এ দম্পতির সংসারজীবন।  প্রতিবন্ধী আজাদ নওগাঁর মান্দা উপজেলার মৈনম গ্রামের বাসিন্দা। একমাত্র মেয়ে আলেমা খাতুনকে চার বছর আগে বিয়ে দিয়েছেন। স্ত্রী কাজলি বেগমকে সঙ্গে নিয়ে হুইল চেয়ার বসে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে যা পান তা দিয়েই সংসার পরিচালনা করেন। আজাদের নামে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডও রয়েছে।

গতকাল সোমবার উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের বর্দ্দপুর আশ্রয়ণ পল্লীতে গিয়ে এ দম্পতির সুন্দর একটি মুহুর্তের ছবি ক্যামেরাবন্দি করা হয়। প্রতিবন্ধী আজাদ বারান্দায় বিছানা পেতে আধাশোয়া অবস্থায় রয়েছেন। আর তাঁর স্ত্রী কাজলি বিবি শিয়রের পাশে বসে গল্প করছিলেন। প্রতিবন্ধী আজাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, এক সময় তাঁর মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। অন্যের এক টুকরো জমির ঝুপড়ি ঘরে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন। বিভিন্ন দুর্যোগ মাথায় নিয়ে কাটিয়ে দিতে হয়েছে বছরের অর্ধেক সময়। সহযোগিতার ভয়ে কেউ ফিরেও দেখতেন না। ভিক্ষাবৃত্তি করে অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এখন নিয়মিত প্রতিবন্ধীভাতা পান। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ পল্লীতে একটি ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন। নতুন ঠিকানায় স্ত্রীকে নিয়ে অনেক সুখেই কাটছে তাঁদের দিন। এজন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাঁর দীর্ঘ জীবন কামনা করেন।  একই পল্লীর বাসিন্দা শুভবালা ঋষি জানান, স্বামী সুধা চন্দ্র ঋষি প্রায় ২০ বছর আগে মারা যান। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে গনেশপুর ইউনিয়নের সতিহাট ঋষি পল্লীতে অত্যন্ত দুর্বিসহ দিন কাটাতে হয়েছে। এখন নতুন ঠিকানার সুন্দর পরিবেশ অনেক ভাল লাগছে। ইতোমধ্যে বিধবা ভাতার তালিকাভূক্ত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

বর্দ্দপুর আশ্রয়ণ পল্লীর আরেক বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাঁর নিজস্ব জমিজমা নেই। সেলুন পেশার আয় দিয়ে সংসার চালাতেন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ পাওয়ায় খুব খুশি। আশ্রয়হীনদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মান্দা উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-১ এর আওতায় ৯০ ও আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ২১ পরিবার মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েছেন। একই সঙ্গে নামজারী, দুই শতক জমির দলিলসহ যাবতীয় কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারগুলোর হাতে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে