কঠোর লকডাউনে পোরেশায় নকল নবিশদের মানবেতর জীবন যাপন

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২১; সময়: ১:৩৯ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, পোরশা : চলমান লকডাউনে নওগাঁর পোরশা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত নকল নবিশগণ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। করোনা প্রাদুর্ভাবের পর সরকার লকডাউন ঘোষনা করার পর থেকে উপজেলার ২১ জন নকল নবিশ কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

লকডাউনে অফিস বন্ধ ও পর্যাপ্ত বালাম বহি না থাকায় কাজ করতে পারছেন না তারা। ফলে তারা মজুরি ভাতা না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম বড় খাত হচ্ছে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। সরকার এখান থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। এ রাজস্ব আদায়ে ও সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে নকল নবিশগণ।

এরা সাধারনত দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পর বালাম বইয়ে লিপিবদ্ধ (সংরক্ষণ) কাজ ও নকল দলিল প্রদানে মূল সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করে থাকেন। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে নিজেদের আর খাপ খাওয়াতে পারছেন না তারা।

নকলনবিশরা জানান, গত ১ জুলাই থেকে সরকার কতৃক সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকে অদ্যবধি অফিস বন্ধ থাকায় তাদের আয় রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এ উপজেলায় কর্মরত ২১ জন নকলনবীশ পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

উপজেলা নকল নবিশ এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানান, তারা ছাড়া সরকারি দপ্তরে নিয়োজিত সকলই সরকারের কাছ থেকে বেতন ভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু তারা কর্মহীন হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে দিনাতিপাত করছেন বা কিভাবে চলছে তাদের সংসার তা কেউ খোঁজ নেয় না। এ উপজেলার নকল নবিশদের বেশির ভাগ পরিবার খেয়ে না খেয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন বলে তিনি জানান। তারা না পারছেন কাউরি কাছে হাত পাততে বা না পারছেন তাদের ন্যায্য পাওনা আদায় করতে। দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে উপজেলা, জেলা সহ দেশের নকল নবিশদের পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।

উপজেলা নকল নবিশ এসোসিয়েশন সভাপতি আমির উদ্দিন(বাবু) জানান, এমনিতেই প্রায় ৮ থেকে ৯ মাস পোরশা সাব রেজিস্ট্রার অফিস অজ্ঞাত কারণে বালাম বহি না থাকায় কোন লেখনী বিল পাচ্ছেন না। এর মধ্যে আবার লকডাউনে অফিস বন্ধ।

এ কারনে লেখনি বীল না পেয়ে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরকার করোনার কারণে যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন এর মধ্যে থেকে যৎসামান্য নকলনবীশদের জন্য বরাদ্ধ দিলে কিছুটা হলেও দেশের নকল নবিশরা পরিবার নিয়ে খেয়ে দেয়ে বাঁচতো বলে তিনি জানান। তবে এ পর্যন্ত তারা কোন প্রকার খাদ্য সহায়তা পাননি বলেও তিনি জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে